বিএনপি সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কাউকে ঘুষ দিতে হবে না। পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবারকে এ কার্ডের আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাঁশখালীতে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে সাম্প্রতিক বন্যায় দুর্গত মানুষের পুনর্বাসন ও গৃহনির্মাণের আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান (শামীম)।
মীর শাহে আলম বলেন, ২০ বছর পর ক্ষমতায় আসছি। ছয় মাস পর অনেকে হতাশ হয়ে যায়- ভাই, আমি তো কিছুই পাইনি! আমরা ভাই, এই কথাটা যদি সাড়ে চার বছরের মাথায় গিয়ে বলতেন, তাহলে বুঝতাম যে কিছু পাননি। কিন্তু সাড়ে চার বছর আগে যদি বলেন কিছুই পাননি, পাবেন তো! হতাশ হচ্ছেন কেন? একটু ধৈর্য ধরতে হবে আপনাদের।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের সরকার, বিএনপি সরকার জনগণের সরকার। এইজন্য উনার সিগনেচার কিছু প্রজেক্ট-প্রকল্প আপনাদের জন্য উনি দিয়েছেন। সেটা হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড।’
ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোটি পরিবার—ইউনিভার্সাল সমস্ত পরিবার আগামী চার বছরের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে ইনশাআল্লাহ। আমি আরও পরিষ্কার করি, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কাকু-ঘুষটুস দেওয়ার দরকার নাই, এই কার্ড সবাই পাবেন পর্যায়ক্রমে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মিসেস, পাপ্পার মিসেসও পাবে- সিরিয়াস বললাম! মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সধর্মিণী আমাদের শ্রদ্ধেয় ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ডটা পাবেন, এটা বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত।’
কারা আগে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, তা ব্যাখ্যা করে মীর শাহে আলম বলেন, প্রথম কারা পাবেন? যারা একদম হতদরিদ্র, এরপরে নিম্নবিত্ত, তারপরে মধ্যবিত্ত, তারপরে উচ্চবিত্ত।
তিনি বলেন, ‘অতএব হতাশ হবেন না। এই যে যে হুজুরের কথা আমি বললাম, পার্টিতে নেমেছিল, উনি নির্বাচনের মধ্যে বলেছিল- “রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড”! ঠিক কিনা? সংসদে দাঁড়িয়ে বলে, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার নির্বাচনী এলাকায় কবে ফ্যামিলি কার্ড পাব?” আরে ভাই, আপনারা চান কেন? আপনারা তো বলছেন “রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড”, পড়ে নেন।’
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ও এলাকার লোক তো বেহেশতের কাছাকাছি আছে, আর আমাদেরকে যারা ভোট দিয়েছে তারা তো দোজখ এবং বেহেশতের মাঝখানে আছে। আমরা আগে তাদেরগুলা ঠিক করি, তারপরে আপনাদের নিয়ে চিন্তা করি।
কৃষকদের জন্য কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এরপরে আপনাদের সন্তান তারেক রহমান চিন্তা করেছে, এদেশের কৃষকের পরিমাণ মাত্র ২ কোটি ১০ লাখ। এই ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককেও আমরা কার্ড দেব। ইতিমধ্যে ১৫ হাজার দিয়েছি।
তিনি বলেন, এই অর্থবছরের জুনের মধ্যে ৪৩ লাখ কৃষকের হাতে বিএনপি সরকার কৃষক কার্ড পৌঁছে দেবে। আর এই বছর আমরা ৪৫ লাখ ফ্যামিলি কার্ড প্রত্যেকটি উপজেলায় আমরা পৌঁছে দিয়েছি ইনশাআল্লাহ।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমি একবারই বললাম, আমরা হতাশাগ্রস্ত জাতি, হঠাৎ হতাশ হয়ে যাই; হতাশ হবেন না। আমরা একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি, ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে আমরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়েছি, যেখানে অনেক কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। তিনি বলেন, এই সমস্যার মধ্য দিয়েও তারেক রহমানের সাহসিকতার মধ্য দিয়ে এই বছরে আমরা ৪৫ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড, ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা একদম চাট্টিখানি কথা নয়।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসলাম ধর্মকে বিক্রি করে যারা রাজনীতি করে, তারা কোনোদিন সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি—যাদের দেখলেই আমরা সালাম দিই, আদব করি—ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কথা কোনোদিন ভেবেছিল? কোনোদিন ওই দলটি দাবি করেছিল ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারি করতে হবে, তাদেরকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে?
তিনি বলেন, এই বিষয়টি মাথায় নিয়ে এসেছে আপনাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশের সাড়ে ৩ লক্ষ মসজিদ এবং ৪০ লক্ষ মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা—যারা ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং তাদের ধর্মগুরু রয়েছেন, তাদেরকে আগামী চার বছরের মধ্যে সবাইকে সম্মানি ভাতার আওতায় এনে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, ইতিমধ্যেই জরিপ কাজ চলছে। এই বছর দেড় লক্ষ ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্য ধর্মের ১০ হাজার এই সম্মানি ভাতার আওতায় আসবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তাই ছয় মাসের মধ্যে সবকিছু পাওয়ার প্রত্যাশা না করে ধৈর্য ধরতে হবে।




