মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েএসএসসি পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ৪৫৮৫ শিক্ষার্থীর ভাগ্য বদল

এসএসসি পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ৪৫৮৫ শিক্ষার্থীর ভাগ্য বদল

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নে বদলে গেছে ৪ হাজার ৫৮৫ শিক্ষার্থীর ফল। মূল ফলে অকৃতকার্য হলেও পুনর্মূল্যায়নের পর তারা পাস করেছেন। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন আরও ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারীদের নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হয়। আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হলো।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে রেকর্ডসংখ্যক ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন। একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের জন্য আবেদন করতে পারায় মোট আবেদনের সংখ্যা ছিল আরও বেশি।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়ে। সব মিলিয়ে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।

বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এর আগে জানিয়েছিলেন, এবার প্রথমবারের মতো পুনঃনিরীক্ষণের পাশাপাশি উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে।

সাধারণত পুনঃনিরীক্ষণের সময় উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, কোনো প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়ন করা হয়নি কি না কিংবা নম্বর তোলার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি আছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়। এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করায় ফলাফলে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। এ ছাড়া কুমিল্লা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এটি গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার। মূল ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর এবার পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হলো।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ