বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, দুই অঙ্ক থেকে কমিয়ে এনে সুদের হার বিনিয়োগবান্ধব করা হবে। তিনি বলেন, দুই অঙ্কের সুদের হারে ঋণ নিয়ে টেক্সটাইলের মতো ইন্ডাস্ট্রি এই শিল্পের সারভাইভ করা সম্ভব না, এ বিষয়ে আমরা সচেতন। আমরা এই সুদের হার কমিয়ে আনবো। এই সুদের হার এমন হতে হবে যেটা নিউ ইনভেস্টমেন্ট এবং অনগোয়িং বিজনেসের গ্রোথকে সাপোর্ট করে। এটা হচ্ছে একটা প্রায়োরিটি কন্ডিশন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ড্রাস্ট্রি অ্যাক্সিবিশনের (বিটিকেজি এক্সপো-২০২৬) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি লি. এর যৌথ উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ২৯ এপ্রিল শুরু হওয়া তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার ও বস্ত্র খাতের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনী চলবে ২ মে পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের কনভেনর ফজলে শামীম এহসান। আরও বক্তব্য দেন ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর স্পেন্সার লিন। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন বিকেএমইএ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাশেদ।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে প্রধান নিয়ামক ভূমিকা পালন করার ক্ষমতা যাদের আছে, তারা হচ্ছে পোশাক খাত, যারা এ দেশে শিল্প বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বিশেষত শিল্পের সঙ্গে। কারণ আপনারা বিনিয়োগ করেছেন, সেই বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান হয়েছে। এই মুহূর্তে যে জায়গাটাতে আমরা আছি, যে কারণে ইন্ডাস্ট্রিগুলি সাফার করছে, তার মধ্যে প্রধানতম কারণ হচ্ছে জ্বালানির অভাব। আর ডাবল ডিজিট ইন্টারেস্ট। ১৩ থেকে ১৪ পারসেন্ট কস্ট অব ফান্ড দিয়ে প্র্যাকটিক্যালি টেক্সটাইল বা এই রকম শ্রমঘন কম আয়ের ব্যবসা—মানে কম লাভের ব্যবসা এটা সারভাইভ করা সম্ভব না। এই জাতীয় ইন্টারেস্ট দিয়ে হয়তো এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি সারভাইভ করবে যারা বিমান বানায়, হাইটেক কোনো প্রোডাক্ট বানায় তাদের পক্ষে সম্ভব। কিন্তু টেক্সটাইল এর মতো যে প্রাইমারি ইন্ডাস্ট্রি বা অন্য যেগুলি আমাদের আছে, সেগুলি এই রকম হাই কস্টে সারভাইভ করা সম্ভব না। আমরা এই বিষয়ে পূর্ণ সচেতন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানির যে অব্যবস্থাটা আমরা পেয়েছি এটা আমরা তৈরি করিনি, আমরা এটা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। আজকে বাংলাদেশে যদি পুরোপুরি চাহিদা মেটাতে হয়, তাহলে আমাদের দরকার ৪৩০০ এমএমসিএফডি গ্যাস। এই মাটির নিচ থেকে আসে ২৩০০-১৭০০। তাহলে ডেফিসিট কত? আরও ১৪০০ থেকে ১৭০০ ডেফিসিট।




