প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে বিকল্প শ্রম বাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।
তিনি বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন- সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল, রাশিয়া ইত্যাদি নতুন দেশগুলোর বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশি কর্মীদের পেশাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজন অনুসারে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে বিকল্প নতুন শ্রম বাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন- সার্বিয়া, গ্রীস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল, রাশিয়া ইত্যাদি নতুন দেশসমূহে বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফরের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস সমূহকে শ্রমবাজার অনুসন্ধানপূর্বক বাংলাদেশি কর্মীর পেশাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের সুপারিশ মোতাবেক প্রয়োজন অনুসারে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট/ বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগ করা হবে। মালয়েশিয়া শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের জন্য কাজ চলছে। থ্যাইল্যান্ডে শ্রম বাজার খোলার বিষয়ে সে দেশে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধাবস্থার কারণে অন্যান্য দেশের চিকিৎসক, ব্যাংকার, প্রকৌশলীসহ পেশাজীবীরা মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করছেন। এ অবস্থায় সেখানে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের নিয়োগের সম্ভাবনা যাচাইসহ অন্যান্য কোন কোন সেক্টরে কর্মীদের চাহিদা রয়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন পাঠাতে দূতাবাসসমূহকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণ সীমা ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পুনরায় বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পূর্ববর্তী শিক্ষা ও কাজের স্বীকৃতি এবং তার সনদ প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি জানান, জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সে দেশে কর্মী প্রেরণের হার বৃদ্ধির জন্য জাপানিজ ভাষা ও স্কিল ট্রেনিং-এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ৫৩টি টিটিসিতে জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া, জাপানিজসহ রাশিয়া, আরবি, জার্মান, ইতালিয়ান ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে, বিভিন্ন ভাষার ৪১ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।




