শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনবন্ধ হয়ে গেছে একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

বন্ধ হয়ে গেছে একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। অবশ্য, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি বিভাগ। বন্ধের বিষয়টি জানতে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফ হাসনাতের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে শেষ পরিশোধন কার্যক্রম হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির দুজন কর্মকর্তা। ইআরএল কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সংকটের মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ের (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা ৫ হাজার টন এবং অপরিশোধিত তেলের চারটি ট্যাংকের ডেড স্টক (মজুত ট্যাংকের তলানিতে জমে থাকা অপরিশোধিত তেল) তুলেও পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।

কর্মকর্তারা আরও জানান, ইআরএল সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে থাকে। তবে, ক্রুড সংকটের কারণে গত মাস থেকেই পরিশোধন কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টন করা হয়েছিল। গত ৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে এসেছে।

বিপিসির তথ্যমতে, দেশে প্রতি বছর ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ বেশি। প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, যা ইআরএলে পরিশোধন করা হয়। এলপিজি, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেসসহ ১৬ রকমের তেল জাতীয় পণ্য উৎপাদন করে ইআরএল। অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ভারত ও চীন থেকে বছরে প্রায় ৪৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে বাংলাদেশ।

দেশে সর্বশেষ ক্রুড তেলের চালান এসেছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর যুদ্ধের ফলে অস্থিরতা শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এশিয়ায় তেল আমদানির প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়। এ জন্য এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল বোঝাই একটি জাহাজ গত ৩ মার্চ সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের পথে যাত্রা করার কথা থাকলেও তা আটকে যায়। জাহাজটির চুক্তি বাতিল করা হয়। এছাড়া আবুধাবি থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেলের আরেকটি চালানও বাতিল করা হয়েছে। ফলে ৫৪ দিনে দেশে কোনও ক্রুড তেলের চালান আসেনি। ফলে ক্রুড সংকটে পড়েছে ইআরএল।

বিপিসির কর্মকর্তারা বলেন, সৌদি আরামকোর কাছে থেকে এক লাখ টন ক্রুড তেলের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। এই আমদানি চালানের বিপরীতে ইতিমধ্যে ঋণপত্র (এলসি) খুলেছে বিপিসি। আগামী ২১ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে চালানটি জাহাজীকরণের কথা রয়েছে। চালানটি পারস্য উপসাগরের ওপর নির্ভর না করেই সরাসরি আরব সাগর হয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটে প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পরবর্তী আমদানি চালান দেশে আসার কথা রয়েছে। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ইআরএল কর্তৃপক্ষকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ