সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে ফের বন্ধ হরমুজ প্রণালি

লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে ফের বন্ধ হরমুজ প্রণালি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে বলে ইরানের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি)।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। তবে যুদ্ধবিরতির পরপরই লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র হামলা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

খবরে বলা হয়েছে, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে লেবাননে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের এই অভিযান হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানালেও স্পষ্ট করে বলেন, এই চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী খুলে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করে, তাহলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী বন্ধ করাকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করেছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইরানকে দ্রুত ও নিরাপদভাবে প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির অংশ ছিল না। তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানান, লেবাননের পরিস্থিতি “একটি আলাদা সংঘর্ষ” এবং এটি চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে লেবাননে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় আকারের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ