এক সময় দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছিল মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি কারও দাসত্বের নয়। দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়-সবার আগে বাংলাদেশ’এই নীতিতেই বিএনপি দেশ পরিচালনা করতে চায়।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে বিএনপি ও জোটের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন।
তারেক রহমান বলেন, সবকিছুর মালিক আল্লাহ, কিন্তু কেউ কেউ বেহেশতের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ভোট চাচ্ছে। নির্বাচনের আগেই তারা ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পরে তারা কি করবে সবাই বুঝে গেছে। অমুককে দেখেছেন, তমুককে দেখেছেন যারা বলছেন, তাদের ‘৭১ সালে দেশের মানুষ দেখেছে।
ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছুদিন দেখছি, দেশের কোনো কোনো মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পোস্টাল ব্যালট ডাকাতি করা হচ্ছে। যারা পালিয়ে গেছে তারা যেমন ভোট ডাকাতি করেছিল, একইরকম ষড়যন্ত্র চলছে। এর বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা সম্ভব।
তারেক রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে সমবেত হওয়ার এই প্রেক্ষাপট তৈরি করতে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। বাক্স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, বিএনপিসহ লাখো সাধারণ মানুষ নির্যাতিত, পঙ্গু ও নিঃস্ব হয়েছেন। ব্যালট ছিনতাই ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ব্যালট ছিনতাই হয়েছে, আমি-ডামি, নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছে, আমরা দেখেছি। বিগত দিনে মানুষের রাজনৈতিক ও ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক, বাক স্বাধীনতার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গত ১৬ বছর অনেককে হারিয়েছি।
ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, পালিয়ে যাওয়া একটি দলের মতো দেশের ভেতরেও একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাদের ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, যারা পালিয়ে গিয়েছে, যারা বাক-স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়েছিল, তারাই ইলিয়াস আলীর মতো শত হাজার মানুষকে হত্যা করেছে।
কৃষকদের পাশে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধানের শীষ জয়ী হলে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হবে। কৃষি কার্ড চালু করা হবে এবং খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে পানির সংকট দূর করা হবে। নদী থেকে খাল কেটে পানি আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর আগে, বেলা পৌনে ১১টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভার কার্যক্রম।
এই জনসভাকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরী ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দিন ধরেই বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বুধবার রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় সভাস্থল।
তারেক রহমানের সফর ও জনসভাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সিলেট নগরীতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার রাত আটটার দিকে আকাশপথে সিলেটে পৌঁছান বিএনপির চেয়ারম্যান। রাতেই তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। পাশাপাশি হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ কবরস্থানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবরেও শ্রদ্ধা জানান। এরপর তিনি দক্ষিণ সুরমার বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান।




