শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়কোন জেলায় কয় মন্ত্রী

কোন জেলায় কয় মন্ত্রী

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

নয়া সরকার গঠন নিয়ে কমবেশি সবারই আগ্রহ থাকে। থাকে আশা-আকাঙ্খার সমীকরণ। মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীরা আপন এলাকার উন্নয়নে মনোনিবেশ করবেন এই আশায় বুক বাঁধেন অনেকে। প্রত্যাশা করেন নিজ এলাকার নেতাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখার। চান নতুন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রণালয়টি থাকুক নিজ আঞ্চলিক বলয়ে।

সাধারণ মানুষের এই সমীকরণে কপাল খুলেছে ৩৭ জেলার মানুষের। বাকি ২৭টি জেলা থেকে কারো ঠাঁই হয়নি নব গঠিত মন্ত্রিসভায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন এই মন্ত্রিসভায় ১৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী হয়েছেন ঢাকা বিভাগ থেকে। ৩ জন মন্ত্রী হয়েছেন রংপুর বিভাগ থেকে।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী কিছুই নেই, এমন জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি চেয়ারপার্সনের নির্বাচনী এলাকা ফেনী, জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত সাতক্ষীরা, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার।

ঢাকার কোলঘেঁষা মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, রাজবাড়ী, শরিয়তপুর, বরিশাল বিভাগের বরগুনা, পটুয়াখালীও না পাওয়ার তালিকায় রয়েছে।

এছাড়াও বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, নড়াইল, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, আর গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, হবিগঞ্জও রয়েছে মন্ত্রিত্ব না পাওয়ার তালিকায়।

গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কেউ মন্ত্রিসভায় নেই। ভোলাবাসী এবার তোফায়েল আহমেদকে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছে। পাশাপাশি পেয়েছে একজন উপমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ঝালকাঠির একমাত্র মন্ত্রী। সিরাজগঞ্জেও সবেধন নিলমণি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

দ্বিতীয় লন্ডন খ্যাত সিলেট জেলা থেকে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। গত মন্ত্রিসভায়ও একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন তারা।

সিলেটের পার্শ্ববর্তী জেলা সুনামগঞ্জকে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এ জেলার বাসিন্দা এমএ মান্নান অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

কুমিল্লার কপাল যেন একটু প্রসন্নই বলতে হয়। বিগত সরকারের সময়ে প্রথমে মন্ত্রী না থাকলে শেষ দিকে এসে ঠাঁই পান মুজিবুল হক। এবার প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ দু’টি মন্ত্রণালয় পেয়েছে তারা।

মুজিবুল হক রেলপথ ও আহম মুস্তফা কামাল পেয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। নোয়াখালী জেলার ওবায়দুল কাদের নবম সংসদের শেষ দিকে মন্ত্রিত্ব পেলেও এবার প্রথম থেকেই পেয়েছেন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

নবম সংসদে বেশ গর্বেই ছিলো চাঁদপুরবাসী। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র ছিলো তাদের দখলে। দু’জনকে হারিয়ে একজন নিয়েই এখন তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাদের।

নানা কারণে দু’জনেই বাদ পড়েছেন এবারের মন্ত্রিসভা থেকে। আর যুক্ত হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নাম। চাঁদপুরের সন্তান মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া পেয়েছেন এই মন্ত্রণালয়টি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী এবার ৩ জনকে পেয়েছেন মন্ত্রী হিসেবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মৎস ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। প্রথম দু’জন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নির্বাচিত আর কামরুল ইসলামের জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া হলেও ঢাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে এবারও মন্ত্রিসভায় আছেন ৩ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ৩ জনই চট্টগ্রামের সন্তান।

নীলফামারী থেকে বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মী আসাদুজ্জামান নূর রয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।

পিরোজপুর থেকে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু রয়েছেন এবারের মন্ত্রিসভায়। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। শেরপুরে থেকে রয়েছেন কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। এবার নিয়ে তিন দফায় তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন।

রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতিসহ অনেকেরই বাড়ি কিশোরগঞ্জে। জেলা  বাসিন্দারা স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুকে পেয়েছে।

গাজীপুরবাসী ১ জন মন্ত্রী ও ১ জন প্রতিমন্ত্রী পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এ জেলার বাসিন্দা।

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন দু’জনই ময়মনসিংহের অধিবাসী। নবম সংসদে ময়মনসিংহের মানুষ একজন মাত্র প্রতিমন্ত্রী পেলেও এবার তারা প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রীও পেয়েছেন। জামালপুর থেকে রয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।

দিনাজপুর থেকে এবারও মন্ত্রিসভায় রয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। তবে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নন, এবার রয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে।

রাজশাহীর শাহরিয়ার আলম হয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। নাটোরের জুনাইদ আহমেদ পলক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়ে কম বয়সে মন্ত্রণালয় পাওয়ার চমক দেখিয়েছেন। নেত্রকোনার ছেলে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আরিফ খান জয় এই জেলা থেকে একমাত্র উপ-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।

নওগাঁ জেলার এমাজউদ্দিন প্রামাণিক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। পাবনাবাসী এবার ভূমিমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছেন শামসুর রহমান শরীফ ডিলুকে। মৌলভীবাজারের সৈয়দ মহসীন আলী হয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

ঢাকার এমপি আসাদুজ্জামান খান কামাল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং নসরুল হামিদ বিপু বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। ঢাকার অধিবাসী ইয়াফেস ওসমান এবারও টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।

খুলনা ও মাগুরা জেলা থেকে নারায়ণ চন্দ্র এবং বীরেন সিকদার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। যশোরের ইসমত আরা সাদেক হয়েছেন জনপ্রতিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ