মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়আগে বিচার নিশ্চিত করতে হবে, এরপর নির্বাচন : ইনকিলাব মঞ্চ

আগে বিচার নিশ্চিত করতে হবে, এরপর নির্বাচন : ইনকিলাব মঞ্চ

শরিফ ওসমান হাদির খুনিদের বিচার নিশ্চিতে বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন ও ট্রাইব্যুনালের কাজে সহায়তার জন্য এফবিআই এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো পেশাদারী ইন্টেলিজেন্সের সহায়তা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। ওসমান হাদির হত্যাকারী কারা সেটা না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন দিয়ে চলে যাবেন এটা হবে না। নির্বাচনে আগে বিচার নিশ্চিত করতে হবে, এর আগে কোনো নির্বাচন হবে না বলে অন্তর্বর্তী সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চ।

সোমবার দুপুর ১২টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত আইজিপির ব্রিফিং ও হত্যার ঘটনায় প্রশাসনের বক্তব্যকে প্রত্যাখান’ করে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এসব কথা বলেন।

ওসমান হাদির খুনের ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার; এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গৃহিত সকল পদক্ষেপ জানানো এবং সিভিল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে আওয়ামী দোসরদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দুই দফা দাবি জানানো হয়েছিল ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে।

সেই দাবির জবাব সন্তুষ্ট নয় বলে আজ উল্লেখ করেন ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি বলেন, ১১ দিনেও খুনি, খুনের পরিকল্পনাকারী ও  মদদদাতা কারা তা নিয়ে সরকারের থেকে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাইনি। তাদের জবাবে আমরা সন্তুষ্ট নই।

সংবাদ সম্মেলনে দুই দফা দাবি জানিয়ে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, দুইটা দাবি আপনাদের মাধ্যমে জানাই রাখতে চাই— দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা এবং ট্রাইব্যুনালের কাজে সহায়তার জন্য এফবিআই এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মত পেশাদারী ইন্টেলিজেন্সের সহায়তা গ্রহণ করা। এই দুইটা ব্যাপার অতি দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, দুপুর ৩টায় আমরা একটা বিক্ষোভ মিছিল ডাকছি ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে। ওই বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সময়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করব যে, এই সরকারের সঙ্গে আমরা রয়েছি নাকি এই সরকার পতনের আন্দোলন আমরা ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে শুরু করব।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব নেয়নি। এই সরকার যদি এই বিচার নিশ্চিত না করতে পারে, এই সরকারের থাকার কোনো দরকার নেই।’

জাবের আরও বলেন, ‘গতকাল থেকে গুঞ্জন শুনছি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নাকি পদত্যাগ করবেন। পুরো ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত, এটা নিশ্চিত কইরা আপনি এইখান থেকে যাইবেন। অন্য কোনো জায়গায় যাইতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, আপনি যাবেন কোনো সমস্যা নাই। তার আগে বলবেন কে এই খুনের তদন্ত করতে আপনারে বাধা দিছে, সব কথা বলে এরপর আপনাকে যাইতে হবে। এছাড়া আপনার যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশ্যে জাবের বলেন, ‘আপনি বলেছেন, আপনি শরিফ ওসমান হাদিকে ধারণ করেন। কিন্তু একবারের জন্যও জানাজার ময়দানে আপনি বলেননি, এই খুনের বিচারের ব্যাপারে আপনি কী করবেন। এত বড় একটা হত্যাকাণ্ড হলো, এর বিচারের জন্য আপনি কি কি পদক্ষেপ নেবেন সেটা আপনার মুখ থেকে শুনতে পারিনি। আপনার যে অসহায়ত্ব আমরা সেটা দেখতে পেয়েছি। সেটা কীসের জন্য আমরা তা জানতে চাই। আপনাকে কে অসহায় করে তুলল সেটা জানতে চাই।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ শুধু রক্ত দিয়ে যাবে সেটা শেষ। এখন থেকে রক্ত দেব না। যারা আমার ভাইকে হত্যা করছে, তাদের বের করার দায়িত্ব পালন করতে না পারলে বাংলাদেশের জনগণ কিন্তু রক্ত নেওয়া শুরু করে দেবে। রক্তপাত একবার শুরু হয়ে গেলে আপনারা কিন্তু সেটা থামাতে পারবেন না। আপনাদের হুঁশিয়ারি করে বলতে চাই, ওসমান হাদির হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করেন।

জাবের আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিচার নিশ্চিত করতে হবে, এরপর নির্বাচন। এর আগে কোনো নির্বাচন না।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, সহকারী উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা থেকে শুরু করে প্রত্যেকে প্রচুর পরিমাণে দায়িত্বে অবহেলার কারণেই আজকে হাদি ভাইয়ের রক্ত এই বাংলার জমিনে ঝরেছে। সুতরাং প্রত্যেককেই এর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। খুনিদের গ্রেপ্তার ও খুনিদের পেছনে মদদদাতাদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ