ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
শৈত্যপ্রবাহের কবলে পুরো বাংলাদেশ। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কাঁপছে শিশু ও বৃদ্ধরা। শীতজনিত কারণে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের রোগ-ব্যাধি। সবচেয়ে বেশি শীত পড়েছে রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগের অঞ্চলগুলোতে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটাই ছিল এ শীত মওসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ঢাকা শহরের তাপমাত্রাও কমেছে বেশ। এখানে গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বলা চলে চট্টগ্রাম বিভাগের অল্প ক’টি অঞ্চল ছাড়া দেশের সর্বত্রই ছিল শৈত্যপ্রবাহের কবলে।
বৃহস্পতিবার দেশের সর্বত্রই ছিল কনকনে হিমেল হাওয়া। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে কনকনে ঠান্ডা হাওয়া প্রবেশ করছে বাংলাদেশে ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে। এছাড়া প্রচন্ড ঠান্ডা হাওয়াযুক্ত উচ্চচাপ বলয়টি বর্তমানে অবস্থান করছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কাছে।
বৃহস্পতিবার রাজশাহী, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের সর্বত্রই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। অপরদিকে গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঠান্ডা পরিবেশে জুবুথুবু অবস্থা সর্বত্র। নিতান্ত প্রয়োজন না হলে কেউ ঘরের বাইরে বেরুচ্ছেনা। ঘরকে উষ্ণ রাখার জন্য সারাদিনই ঘরে দরোজা-জানালা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ঢাকা অথবা অন্যান্য শহরাঞ্চলে ঘরকে উষ্ণ রাখার জন্য রুম হিটার ব্যবহার করলেও গ্রামাঞ্চলে ঘরকে গরম রাখার জন্য অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে রাখছেন। বিশেষ করে শেষ রাতে পরিবেশ প্রবল ঠাণ্ডা হয়ে গেলে ঘুম ভেঙ্গে যায়। তখন বাধ্য হয়েই ঘরে আগুন জ্বালাতে হয়। ষাটোর্ধ বয়সীদের অনেকেই মাটির পাত্রে (মালসা) কাঠ-কয়লা জ্বালিয়ে বিছানায় নিয়ে ঘুমাচ্ছেন। এটা থেকে দুর্ঘটনাও ঘটে যাচ্ছে। তারপরেও এটা ছাড়া শরীরকে গরম করার আর বিকল্প কিছু থাকে না তাদের জন্য।
তকে কষ্টে দিনাতিপাত করছে গরিব মানুষ। শীতে কাজ-কর্ম না থাকায় যেমন অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে। একই সাথে গরম কাপড় কেনার সামর্থ না থাকায় শীতেও কষ্ট পাচ্ছেন এরা।
তীব্র শীতে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের রোগ-ব্যাধি। সর্দি-কাশি, জ্বর, হাঁপানী, ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগ নিয়ে আসছেন হাসপাতালে। প্রাইভেট চিকিৎসকদের কাছেও আসছে একই ধরনের রোগে। বিশিষ্ট শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো: আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, শীত জনিত রোগ থেকে রেহাই পেতে হলেই প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। যেমন গায়ে তো গরম কাপড় জড়িয়ে রাখতেই হবে। একই সাথে ঠান্ডা পানি পান না করা। গরম পানিকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিৎ। বয়স্কদের বেলায়ও একই ব্যবস্থা। পানি পানে গরম পানিকে অগ্রাধিকার দিলে কাশি অথবা বুকে কফ জমবেনা। পাতলা লিকার দিয়ে রং চা পান করা যেতে পারে ঘন ঘন। বেশি সর্দি-কাশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে। অবহেলা করলে রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। শিশুদের বেলায় নিউমোনিয়া হয়ে যেতে পারে।
আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারী কুয়াশা পড়তে পারে। সীতাকুণ্ড, শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, পাবনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে মাঝারী শৈত্য প্রবাহ এবং টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাঙ্গামাটি, হাতিয়া ও সাতক্ষীরা অঞ্চলসহ রংপুর ও বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
কৃষি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে দেশের উত্তর-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আলু ফসলের ব্লাইট রোগ প্রতিরোধে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে।




