জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বনির্ধারিত পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে বুধবার গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা হামলা-সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে গোপালগঞ্জে ২২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে, যা গত রাত ৮টা থেকে শুরু হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং তাদের সমর্থকরা দফায় দফায় এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গুলি চালিয়েছে। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষে অবরুদ্ধ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ দলের শীর্ষ নেতারা বিকেল ৫টার পর সেনাবাহিনী-র্যাব-পুলিশের সহায়তায় শহর থেকে বের হয়ে খুলনায় যান। গতকাল সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো বার্তায় বলা হয়, বুধবার রাত ৮টা থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শেখ মো. নাবিল চারজন নিহত হওয়ার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। নিহতরা হলেন—গোপালগঞ্জ শহরের উদয়ন রোডের বাসিন্দা সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা (২৫), কোটালীপাড়ার রমজান কাজী (১৮), টুঙ্গীপাড়ার সোহেল মোল্লা (৪১) ও সদর উপজেলার ভেড়ার বাজার এলাকার ইমন (২৪)।বিকেল ৫টায় গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাস গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, নিহত ব্যক্তিদের গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। জানা গেছে, এই হাসপাতালে আরো ৯ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনার পর বিকেলে তাদের অস্ত্রোপচার করা হয়। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
গত ১ জুলাই থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে এনসিপি। রংপুরসহ দেশের কয়েকটি জেলায় এই কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল গোপালগঞ্জে পদযাত্রা করে তারা। কিন্তু দলের নেতাকর্মীদের সেখানে যাওয়ার আগে থেকেই স্থানীয়রা হামলা শুরু করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর গোপালগঞ্জে পৌঁছার আগে সকাল সাড়ে ৯টায় সদর উপজেলার উলপুর-দুর্গাপুর সড়কের খাটিয়াগড় চরপাড়ায় ছাত্রলীগকর্মীরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগু ধরিয়ে দেন। গাড়িটি ভাঙচুরও করা হয়। তখন সেখানে তিন পুলিশ সদস্য হামলার শিকার হন। সকাল ১১টায় টেকেরহাট সড়কের কংশুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম রকিবুল হাসানের গাড়িতেও হামলা করা হয় ওই সময় গাড়িচালক মো. মইন আহত হন। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মীর মো. সাজেদুর রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব হামলার তথ্য জানান। স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে সদর উপজেলার গান্ধীয়াশুরে ঘোনাপাড়া-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে গাছ কেটে মহাসড়ক অবরোধ করেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
সকালে হামলায় আহত হন সদর উপজেলার গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (আইসি) আহমেদ বিশ্বাস, কনস্টেবল কাওছার ও মিনহাজ। তাঁদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান অবশ্য ঘটনার পর গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছিলেন, ‘কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, আমরা জানি না।’ পুলিশ সুপার জানান, গোপালগঞ্জ শহরে এনসিপির পথসভা অনুষ্ঠিত হবে আর উলপুর-দুর্গাপুর সড়ক দিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের গাড়িবহর যাওয়ার কথা—এ কারণে ওই এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছিল। সেখানে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।




