বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়শেষ পর্যন্ত বের হতে দেওয়া হলো না বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে

শেষ পর্যন্ত বের হতে দেওয়া হলো না বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

শেষ পর্যন্ত বের হতে দেওয়া হলো না বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। আজ রোববার বেলা তিনটা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। পুলিশের বাধায় ব্যর্থ হয়ে তাঁদের বকাঝকা করে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আবার ঘরে ফিরে যান বিএনপির নেত্রী। যাওয়ার আগে ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে গেছেন তিনি।

ঘরে ফিরে যাওয়ার আগে প্রায় আধাঘন্টা তিনি তাঁর বাসভবনের সামনের চত্বরে বসেছিলেন। এক পর্যায়ে পাঁচিল টপকে ঢোকা সাংবাদিকদের বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আজ না হয় কাল, কাল না হয় পরশু কর্মসূচি চলবে।’

গত মঙ্গলবার গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে খালেদা জিয়ার বাসভবন ঘিরে রাখে পুলিশ। আজও এর ব্যতিক্রম হয়নি। পুলিশ সূত্র বলছে, তাঁর বাড়ির সামনে আট প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন রাখা ছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় জলকামান, আর সাড়ে তিনটার দিকে যুক্ত হয় র্যাবের ২০ সদস্যের একটি দল।

তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী সিএসএফের (চেয়ারপারসনস সিকিউরিটি ফোর্স) কর্মী এবং তাঁর প্রেস উইংয়ের দুজন কর্মকর্তা সায়রুল কবির খান ও দিদারুল আলম ছাড়া বাসভবনের ত্রিসীমানায় কোনো নেতা-কর্মীকে দেখা যায়নি। এমনকি ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পানের দোকানদারদেরও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এর আগে গতকাল শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে দুটি ও পেছনে দুটি ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেখে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে পুলিশ। পৌনে সাতটার দিকে আসে পঞ্চম ট্রাকটি।

ট্রাকচালকেরা জানান, কাল রাতে তাঁদের আমিনবাজার থেকে আনা হয়েছে। ভোর ছয়টা পর্যন্ত থাকতে হবে বলে পুলিশ তাঁদের জানায়। আজ খালেদার বাড়ি ঘিরে রেখেছিল আট প্লাটুন পুলিশ। খালেদা জিয়া গৃহবন্দী কি না, কেন তাঁর বাড়ি এত পুলিশ ঘিরে রেখেছে, কেন পাঁচটি ট্রাক দিয়ে তাঁর যাতায়াতের পথ ঘিরে রাখা হয়েছে—এমন সব প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান গুলশান অঞ্চলের উপকমিশনার লুত্ফুল কবীর। বেলা একটার সময় ‘প্রথম আলো’র প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি কাজে ব্যস্ত, পরে জবাব দেবেন। বেলা তিনটার দিকে আবারও সাংবাদিকেরা তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি ‘যথাসময়ে’ কথা বলবেন বলে জানান।

এদিকে দুপুর ১২টার পর চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা সায়রুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বেলা তিনটা নাগাদ তিনি বেরোনোর শেষ চেষ্টা করবেন এমন খবর শোনা যায়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাড়ির মূল ফটকের সামনে পুলিশের প্রায় ৭০-৮০ জন সদস্য অবস্থান নেন। তিনটা ১৭ মিনিটে ঘটনাস্থলে আসেন র‌্যাব-১-এর কমান্ডিং অফিসার কিসমৎ হায়াৎ। খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নিতে হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি দেখতে এসেছেন, সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে চান। এরশাদকে বারিধারার বাসভবন থেকে সিএমএইচে নিয়ে যাওয়ার পর কিসমৎ হায়াৎ বলেছিলেন, এরশাদ অসুস্থ। তাই তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি ও তাঁর বাহিনীর ২০ জন সদস্য এ সময় খালেদার বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।

বেলা সাড়ে তিনটার দিকে খালেদার বাসভবনের পেছনে থাকা ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকেরা জানান, বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পতাকা হাতে গাড়ি থেকে নেমে এসেছেন। একপর্যায়ে তাঁর বাসভবন থেকে মই এগিয়ে দেওয়া হলে সাংবাদিকেরা তাঁর বাসভবনে ঢোকেন। এ সময় খালেদা জিয়াকে খুব উত্তেজিত দেখাচ্ছিল। তিনি পুলিশকে উদ্দেশ করে গালমন্দ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ