মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় উপস্থিত নিয়ে অনিশ্চয়তায় খালেদা জিয়া

গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় উপস্থিত নিয়ে অনিশ্চয়তায় খালেদা জিয়া

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

কঠোর নিরাপত্তার অজুহাতে মূলত অবরুদ্ধ করা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। গুলশানের বাসভবন এবং তার রাজনৈতিক কার্যালয় ঘিরে বসে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ অবস্থায় তার সঙ্গে দলের কোনো নেতাকর্মীকে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে শুক্রবার বিকেলে এক ভিডিও বার্তায় খালেদা জিয়া দেশের সকল নাগরিক ও কর্মীদের গণজমায়ত সফল করার আহবান জানান।এসময় তিনি বলেন, আমি গণজমায়তে জমায়তে উপস্থিত না হতে পারলেও আপনার এই জমায়ত সফল করবেন।

৩ দিন সরেজমিন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। খালেদা জিয়ার বাসার সামনে দায়িত্বরত উপ-পুলিশ পরিদর্শক বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা দিতেই এ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ ও র‌্যাবের কর্মকান্ডে সরকার সে ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রোববার ঢাকা অভিমুখে মার্চ ফর ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্রের অভিযাত্রা) কর্মসূচি ঘোষণা করার পর তার গুলশানের বাসভবন ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে সরকার ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধা দেবে বলে আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন খালেদা জিয়া নিজেই।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বুধবার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে বড় দিনের শুভেচ্ছা বিনিময়ে তিনি এ আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। ওইদিন খালেদা জিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমাকে বাধা বা অবরুদ্ধ করলে সরকার ভুল করবে। এ জন্য সরকারকে চরম পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। বিভিন্ন গোয়েন্দা ও ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, নাশকতা ও সহিংসতার আশঙ্কায় বিরোধীদলীয় নেত্রীকে ঘর থেকে বের হতে না দেওয়া হতে পারে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখে যাত্রার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা জমায়েত হবেন রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায়। গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণের ঢাকায় সমবেত হওয়ার কর্মসূচি ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার। সরকারের আশঙ্কা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের ডাকা ওই সমাবেশ ঢাকাকে অচল বা অশান্ত করারই একটা কৌশল। ফলে যে কোনো মূল্যে কর্মসূচি ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে পুলিশ মার্চ ফর ডেমোক্রেসির কর্মসূচি পালনে অনুমতি দেয় নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার যদি গণতান্ত্রিক হয় তাহলে পুন: বিবেচনা করে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ অনুমতি দিবে।

গণতান্ত্রিক দেশে সকলের সভা সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, নেতাকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সরকার অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার বাসা ও কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সরকার এই কর্মসূচিকে বানচাল করতে নানা রকম ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, কোনো ষড়যন্ত্র ওই কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্থ করতে পারবে না। এ সব কর্মকান্ডের মাধ্যমে সরকার বিরোধীদলীয় নেত্রীকে কর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার অকৌশল নিয়েছে। আমরা এহেন কর্মকান্ডের নিন্দা জানাই। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. ওসমান ফারুক বলেন, ‘সরকার ২৯ ডিসেম্বরের গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচি বাধা দিতেই এভাবে বিএনপি কার্যালয়কে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি গত কয়েক মাস ধরে একরকম অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে।

এদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে বুধবার খালেদা জিয়ার বাসভবনে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। এতে অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে- অঘোষিতভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। বাসভবন ও অফিস কার্যালয়ের রাস্তার উভয় পাশে ব্যারিকেড দিয়ে যান ও জন চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া অন্য কাউকে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হচ্ছে না। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী অভিযোগ করেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় ও কার্যালয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা কেউ তার সঙ্গে গত দুইদিন সাক্ষাৎ করতে পারছি না। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বিরোধীদলীয় নেতা এক রকম অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। বিরোধী দলের এ আশঙ্কার কথা সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার না করে ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, বিরোধী দলের ঢাকা অভিমুখে যাত্রা কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে সমাবেশের আড়ালে রাজধানীতে নাশকতার করা হতে পারে সে জন্যই অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাজধানীর নিরাপত্তা ও নগরবাসীর জন্য হুমকি রয়েছে সে বিষয় মাথায় রেখে অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিএমপি সূত্র জানায়, পতাকা হাতে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা কর্মসূচি বানচালের জন্য সরকার একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। নিরাপত্তার নামে খালেদা জিয়াকে বাসা থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।

সূত্র জানায়, সরকারের নির্দেশে ইতোমধ্যেই আটক করা হয়েছে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের তৃণমূল থেকে শীর্ষ কয়েকশ নেতাকে। যে কোনো মূল্যে বিরোধী দলকে ঢাকায় অবস্থান ও শক্তি প্রদর্শন প্রতিহত করে নিজেদের দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কর্মসূচি ভন্ডুল করতে সর্বাত্মক পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর অংশ হিসেবে ঢাকা ও এর আশপাশের সাত জেলার নেতাকর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হচ্ছে কেন্দ্র থেকে। ঢাকার প্রবেশদ্বার এ সব জেলা থেকে যাতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা ঢাকায় ঢুকতে না পারে, সে জন্য যা যা দরকার করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। সরকারের নির্দেশে নিরাপত্তার অযুহাতে ঢাকার সাথে সারা দেশের সব ধরনের যোগাযোগ বিছিন্ন করে দিয়েছে কতৃপক্ষ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ