মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সারাদেশে চলছে ১৮ দলের অবরোধ

বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সারাদেশে চলছে ১৮ দলের অবরোধ

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সারাদেশে চলছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকে সারাদেশে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি। জনগণের দাবি আদায় এবং প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় চতুর্থ দফায় এই ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। তবে অবরোধ চলাকালে বড় ধরনের তেমন কোনো সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

সারাদেশে নাশকতা এড়াতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের টহল দলও সর্তক অবস্থায় রয়েছে। অবরোধের কারণে রাজধানী থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। কোনো জেলা থেকেও রাজধানীতে বাস আসছে না।

এদিকে অবরোধ চলাকালে সকালে রাজধানীর গাবতলীতে অবরোধকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সকালে রাজধানীর কাঁচপুর-নয়াবাড়ি এলাকায় বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় রাস্তায় আগুন এবং যানবহন ভাংচুর করা হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকু-ে একটি কাভার্ডভ্যানে পেট্রল বোমা ছুড়ে আগুন দেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা।

রাজধানীর বাইরে অবরোধ কর্মসূচির খবর :

মেহেরপুর : অবরোধে দ্বিতীয় দিনে মেহেরপুরের বিভিন্ন সড়কের ৪টি স্থানে অবরোধ করেছেন নেতাকর্মীরা। অবরোধ চলাকালে সকাল পৌনে ৮টার দিকে মেহেরপুর-কাথুলী সড়কে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ২০/২৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে অবরোধকারীরা। অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে।

এ ছাড়াও মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের রাজনগর, মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কের বন্দর ও গোপালনগর মোড় অবরোধ করেন ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় টায়ার জ্বালিয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেন তারা।

টাঙ্গাইল : জেলায় পিকেটিং, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। অবরোধের দ্বিতীয় দিন সকালে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের ইব্রাহীমাবাদ বাইপাস ও রেললাইনের ওপর পেট্রোল ঢেলে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন অবরোধকারীরা। এ ছাড়াও টাঙ্গাইল সদর নগরজলফৈই, নতুন বাসস্ট্যান্ড ও করটিয়া বাইপাসের উপর অগ্নিসংযোগ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন অবরোধকারীরা।

অপরদিকে মির্জাপুর ও সখীপুর উপজেলা বিএনপি কর্মীরা মহাসড়কের সোহাগপাড়া এবং গোড়াই বাইপাসের ওপর অগ্নিসংযোগ করে অবরোধ সৃষ্টি করেছেন। এ সময় অবরোধকারীরা ২০/২৫টি সিএনজি ও অটোরিকশা ভাংচুর করেন।

এদিকে অবরোধের কারণে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহসহ ২০ জেলার যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া যমুনা সেতু-ঢাকা রেলসংযোগ সড়কে টাঙ্গাইলের চারটি রেলক্রসিংয়ের ওপর রাতে অগ্নিসংযোগ করেন অবরোধকারীরা। খবর পেয়ে টাঙ্গাইলে অবস্থানরত জিআরপি থানার রেল পুলিশ আগুন নিভিয়ে ফেলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করেন। তবে জেলার উপজেলা ও সদরে সিএনজি, রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে কোথাও কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকায় ঘারিন্দা রেলস্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় রয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ