জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড বা এসএলসিকে। এসএলসি’র সচিব নিশান্থা রানাতুঙ্গা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সফর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। দুটি টেস্ট, দুটি টি-টোয়েন্টি এবং তিনটি ওয়ানডে খেলতে আগামী ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসার কথা শ্রীলঙ্কা দলের। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এশিয়া কাপে অংশ নেয়ার জন্যও বাংলাদেশে থাকতে হবে তাদের।
শ্রীলঙ্কার ‘ডেইলি মিরর’ পত্রিকাকে রানাতুঙ্গা বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ (বাংলাদেশের রাজনৈতিক) পরিস্থিতির ওপরে আমাদের নজর রাখতে হবে। এরপর আমরা এই সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। আমরা এখনই তাড়াহুড়া করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। তাদের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। মনে রাখতে হবে যে কিছু দিন আগেও আমাদের একই রকম পরিস্থিতি ছিল। আর তখন এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর আমাদের প্রতি ভীষণ সহযোগিতামূলক মনোভাব ছিল।২০০৯ সালের মার্চে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের বাসে সন্ত্রাসীদের হামলার পর থেকে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ।
সেই দুঃসহ স্মৃতির কথা সবাইকে মনে করিয়ে দিয়ে রানাতুঙ্গা বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আমাদের ভীষণ সতর্ক থাকতে হবে। কারণ পাকিস্তানে আমাদের খুব খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছিল। গত সপ্তাহে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দল মাত্র এক ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ থেকে ফিরে গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শ্রীলঙ্কার সফর, এশিয়া কাপ ও আগামী মার্চ-এপ্রিলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে অনেকেই চিন্তিত।
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান অবশ্য পরিস্থিতির উন্নতির ব্যাপারে আশাবাদী। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ফিরে যাওয়ার পর তিনি বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস ডিসেম্বরের ভেতরে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। রাজনৈতিক দলগুলো থেকে এ ব্যাপারে আমরা সবসময়ই সহযোগিতা পেয়েছি। এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের ব্যাপারে কোনো দলই বাধা সৃষ্টি করেনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই ক্রিকেটের বাইরে অবস্থান করবে না।




