প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি বহাল রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সেই আপিলের রায়ের জন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে। আপিল আদালতে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালত শিক্ষার্থীদের কোনো বক্তব্য থাকলে তা শোনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, এই আইন প্রক্রিয়া সমাধানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় আন্দোলনে নেমে দুষ্কৃতকারীদের সংঘাতের সুযোগ করে দেবেন না। সর্বোচ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য আমি সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার বিশ্বাস আমাদের ছাত্র সমাজ উচ্চ আদালত থেকে ন্যায় বিচারই পাবে, তাদের হতাশ হতে হবে না।
তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলনের শুরু থেকেই সরকার ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন করেছে। বরং আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সহযোগিতা করে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যখন আন্দোলনকারীরা স্মারকলিপি প্রদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে সেক্ষেত্রে তাদের সুযোগ করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, কিছু মহল এই আন্দোলনের সুযোগটা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত উচ্চাবিলাস চরিতার্থ করার সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। এর ফলে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে যেসব ঘটনা ঘটেছে তা খুবই বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক। অহেতুক কতগুলো মূল্যবান জীবন ঝড়ে গেল। আপনজন হারানোর বেদনা যে কত কষ্টের তা আমার থেকে আর কে বেশি জানে?
তিনি বলেন, ‘যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
এ সময় তিনি যারা হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই। যে সব ঘটনা ঘটেছে তা কখনোই কাম্য ছিল না।
তিনি বলেন, যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত তারা কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নেই। সন্ত্রাসীরা এদের মধ্যে ঢুকে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এই সমস্ত ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহিৃত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, যারা এই হত্যা সন্ত্রাস ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল তারা যেন উপযুক্ত শাস্তি পায় সেই ব্যবস্থা করব। হত্যা ও অনভিপ্রেত যে সকল ঘটনা ঘটেছে তা সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।
সরকারপ্রধান বলেন, কাদের উস্কানিতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো, কারা কোন উদ্দেশ্যে একটি দেশকে অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিলো, তা তদন্ত করে বের করা হবে।
আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাসীরা সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করে এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢুকে তাদের ক্ষতি সাধন করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, পিতামাতা ও শিক্ষকদের তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলনে মঙ্গলবার সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হন। এরপর রাতে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে ইউজিসি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে হল ছাড়ার নির্দেশের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। তারা সারাদেশে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।




