নিষেধাজ্ঞায় ভর করে নয়, নিজের শক্তিতেই নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ের প্রতি জোর দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সাবেক সেনাপ্রধানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় দলীয় নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হওয়া আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা এ নিষেধাজ্ঞাকে দেখছেন মার্কিন দ্বৈতনীতি হিসেবে।
তবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের ওপর সদ্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া না দেখালেও দলীয় কর্মীদের এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, নিজের ঘর যদি নিজে সামলাতে না পারি, তাহলে কাউ এসে ঘর গুছিয়ে দিবে না। সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে বলা যায় বিভ্রান্ত করার নিষেধাজ্ঞা। র্যাবের উপরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল তাতে তাদের (ক্ষমতাসীনদের) ভয়ংকর যাত্রা বন্ধ হয়েছে? তা হয়নি। তাই নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে হবে। নিজেদেরকেই দাবি আদায় করতে হবে। শক্তি অর্জন করতে হবে।
উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না জেনেই জনগণ দ্বিতীয় ধাপের ভোটেও অংশ নেয়নি। তিনি আরও বলেন, সরকার এমন নির্বাচন করছে যে কোনও দলই নির্বাচনে যেতে চায় না। যারাও আছে তাদেরকে ভাগবাটোয়ারা দিয়ে রাখা হয়েছে। না চাইলে কেউ কিছু দিবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনকে তীব্র থেকে তীব্র করতে হবে।
এদিকে সাবেক সেনাপ্রধানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নিষেধাজ্ঞাকে ভালোভাবে নেননি ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। তারা বলছেন, মার্কিনিরা বাংলাদেশ নিয়ে দ্বিচারিতা করছে। একদিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়ালেও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সে পথ রুদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যাদের বন্ধু, তাদের শত্রুর দরকার নেই। বাংলাদেশ নিয়ে দ্বিচারিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সুসম্পর্ক নষ্ট করছে তারা। জাতীয় নির্বাচনের মত উপজেলা নির্বাচনেও জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহণ করছে দাবি করে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটার উপস্থিতি নিয়ে বিএনপির অভিযোগ সত্য নয়।’




