ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৪৮তম জন্মদিন আজ। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান জন্মগ্রহণ করেন। তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
কর্মসূচি: তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী। জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
শিক্ষা জীবন: তারেক রহমান ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান রাজধানীর বিএফ শাহীন স্কুলে লেখাপড়া করলেও ১৯৮৩ সালে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেন। ১৯৮৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু স্নাতক শ্রেণীর পড়াশুনা শেষ করতে পারেননি। বর্তমানে তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশাস্ত্রে পড়ছেন।
ব্যবসায়ী জীবন: তারেক রহমান বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ করেন ও স্বল্প সময়ের মধ্যে ঐ ব্যবসায়ে সাফল্য অর্জন করেন। পরে তিনি নৌ-যোগাযোগ খাতেও বিনিয়োগ করেন ও সাফল্য অর্জন করেন।
রাজনীতি: ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান সংগঠনের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগে তারেক রহমান বাবা জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বগুড়া কমিটির সদস্য হিসেবে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেয়ার আগেই তারেক রহমান রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক মায়ের সঙ্গে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তারেক রহমান প্রচারণা কার্যক্রমের পাশাপাশি পৃথক পরিকল্পনায় দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালান।
২০০১ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে তারেক রহমানের সক্রিয় আগমন ঘটে। ২০০২ সালে তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব হিসেবে দায়িত্মপ্রাপ্ত হন। দলের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তারেক রহমান দেশব্যাপী দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন।
মামলা ও বিতর্ক: ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ একটি দুর্নীতির মামলায় শহীদ মঈনুল রোড়ের বাড়ি থেকে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সরকার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা দায়ের করে। মামলাগুলোর মধ্যে ১১টি মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের রায়ে স্থগিত হয়ে যায়। সর্বশেষ ১৭ নভেম্বর বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) মামলায় খালাস পান তিনি।
২০০২ সালে ৩৫ বছর বয়সী তারেক রহমানকে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার পর তৎকালীন বিরোধী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতারা এ সিদ্ধান্তকে স্বজনপ্রীতি বলে চিহ্নিত করে ও নিন্দা জানায়। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করে। দলটির শীর্ষ নেতারা এবং কিছু সংবাদপত্রের প্রকাশিত খবরে বিভিন্ন সময় তারেকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ দুর্নীতির অভিযোগ আনে। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ তারেক রহমানের কার্যালয় ঢাকার বনানীস্থ হাওয়া ভবনকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ প্রচারিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অভিযোগ ছিল, তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে হাওয়া ভবন সরকারের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি এবং খাম্বা বাণিজ্যের অভিযোগ করা হয়। ২১শে আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সমাবেশে নৃশংস গ্রেনেড হামলায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উচ্চ আদালতে এখনো বিচারাধীন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়। তবে সম্প্রতি আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
আটকাবস্থায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ: গ্রেপ্তারের কিছুদিন পর তারেককে আদালতে হাজির করা হলে শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য তার আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারেক রহমানের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে চিকিৎসকদের একটি দল পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর আদালতকে জানায়, তারেক রহমানের ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ যুক্তিযুক্ত। এ পর্যায়ে আদালত রিমান্ডে নেয়ার আদেশ শিথিল করে তা কমিয়ে এক দিন ধার্য করেন ও জিজ্ঞাসাবাদকারীদের সাবধানতা অবলম্বনের আদেশ দেন। এরপর তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিবর্তে ঢাকার শাহবাগস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ওই বছরের ২৫ আগস্ট খবর ছড়িয়ে পড়ে, তারেক রহমান তার হাসপাতাল কক্ষে পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখা দেয়, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
মুক্তিলাভ: ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো আদালতে গতি লাভ করে। প্রায় ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সবগুলো মামলায় তারেক রহমান জামিন পান। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুক্তি পান।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলো এ মুহূর্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে আছে। কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক সন্দেহ পোষণ করেছেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনেকাংশেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
চিকিৎসা ও বিদেশে অবস্থান: ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিশেষ কারাগার থেকে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে তারেক রহমানকে দেখতে যেন। সেদিন রাতেই তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওয়ানা হন। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সাউথ ওয়েলিংটন হসপিটাল ও লন্ডন হসপিটালে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার সুবিধার্থে তিনি সেন্ট্রাল লন্ডনের অ্যাডমন্টনে সপরিবারে বসবাস করছেন।
২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান সংগঠনের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। উক্ত কাউন্সিলে তারেক রহমানের ধারণকৃত বক্তব্য উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রচার করা হয়। বক্তব্যে তারেক রহমান জানুয়ারি ২০০৭ এ ক্ষমতায় আসা অগণতান্ত্রিক সরকারের হাতে তার অন্যায় গ্রেপ্তার ও বন্দী অবস্থায় নির্যাতনের বর্ণনা দেন। তিনি নিশ্চিত করেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হওয়া বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থার আড়ালে তাকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।
তারেক রহমান তার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দেন ও জানান, চিকিৎসা সম্পন্ন হতে আরো সময় প্রয়োজন। বক্তব্য প্রচারিত হওয়ার সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উক্ত কাউন্সিলে ব্রিটিশ সংসদ সদস্য জর্জ গ্যালোওয়ে ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রচার মাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ বক্তব্য দেন।
উইকিলিক্সের তথ্য: সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিক্স বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের গোপন তারবার্তা ফাঁস করে। এতে তারেককে ‘দুর্নীতি ও চুরির মানসিকতাসম্পন্ন’ বলে আখ্যায়িত করে। বার্তায় তারেকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়। তারবার্তায় আরো বলা হয়, তার (তারেকের) কোটি কোটি ডলারের সরকারি অর্থ চুরি এ মডারেট মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত করেছে। উইকিপিডিয়া




