সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......মজলুম জননেতা ভাসানীর ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মজলুম জননেতা ভাসানীর ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দেশের নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তির জন্য সারাজীবন আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে পরিচালনা করেছেন তিনি। বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে তার অবদান স্মরণীয়। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন মওলানা। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াসহ জাতীয় নেতারা।

এই মহান নেতা ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের শুরুতে মক্তবে শিক্ষা গ্রহণ এবং মক্তবেই কিছুকাল শিক্ষকতা করেন। ১৯০৩ সালে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন।
মওলানা ভাসানী দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অধিকাংশ সময়ই টাঙ্গাইলের সন্তোষে কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৯টি কারিগরি ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে।
১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন এবং এ সময় ১০ মাস কারা ভোগ করেন। ১৯২৯ সালে আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসানচরে প্রথম কৃষক সম্মেলন করেন। সেই থেকে তার নামের সাথে ভাসানী শব্দ যুক্ত হয়। ১৯৩১ সালে টাঙ্গাইলের সন্তোষের কাগমারীতে, ১৯৩২ সালে সিরাজগঞ্জের কাওরাখোলায় এবং ১৯৩৩ সালে গাইবান্ধায় বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন।
বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা জেলা বার লাইব্রেরি হলে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠিত হয় এবং তিনি এর অন্যতম সদস্য নিযুক্ত হন। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে পুনরায় গ্রেফতার হন। ১৯৫৬ সালে বাংলার দুর্ভিক্ষ রোধকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট ৫০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকায় অনশন করেন।
মওলানা ভাসানী ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী গণ আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা কর্মসূচীর প্রতি দৃঢ় সমর্থন দেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ এ মামলার সকল আসামীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
১৯৭০ সালের নভেম্বরে উপকূলীয় এলাকায় প্রলয়কারী ঘূর্ণিঝড় হলে দূর্গত এলাকায় ত্রাণ কাজে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দিয়ে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান দাবি উত্থাপন করেন।
১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং একই বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক হক কথা পত্রিকা প্রকাশ করেন। মুজিব সরকারের ব্যাংক বীমা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নীতি ও ১৯৭২ সালে সংবিধানের প্রতি সমর্থন প্রদান করেন।
এই মহান নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রবিবার মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, সকাল ১১টায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন। ঢাকায় সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আলোকচিত্র প্রর্দশনী। বিকাল ৪টায় জনসমাবেশ এবং সন্ধ্যা ৬টায় গণসংগীত ও প্রামাণ্য চিত্র প্রর্দশনী।
ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ভাসাসৈনিক আবদুল মতিন এবং মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে মজলুম জননেতার মৃত্যুবার্ষিকী এক নতুন তাৎপর্য নিয়ে জাতির সামনে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।
তারা আজ ঢাকার কাকরাইলের ইনস্টিটিউটশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি কাজী জাফর আহমদ, বিশেষ অতিথি আ স ম আবদুর রব এবং প্রধান বক্তা হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা।
এদিকে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আলাউদ্দিনের সকাল ৭টায় মওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ