ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
১৮ দলের আন্দোলনকে নস্যাৎ করতেই সরকারের এজেন্টরা হরতালে গাড়িতে আগুন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর দাবি, ১৮ দলের কর্মীরা কখনো কোনো নাশকতা করতে পারে না।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। হরতালে গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনায় আহত চারজন গত তিন দিনে মারা গেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে ফখরুল এমন মন্তব্য করলেন। তিনি বলেন, ‘১৮ দলের কোনো কর্মী হরতালে এ ধরনের কাজ করতে পারে না। এ ধরনের কাজ তারাই করতে পারে যারা ১৮ দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে চায়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে তা সংলাপে মধ্যে দিয়ে সামাধান না হলে রাজপথে সমাধান হবে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘দুই নেত্রীর ফোনালাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আসুন সংলাপে বসি। কিন্তু সংলাপ হতে হবে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে। তাহলেই বিএনপি যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে আলোচনা ও সমঝোতার জন্য প্রস্তুত আছে’।
বিএনপি নেতা বলেন, তিনি বলেন, বিএনপি নিজস্বভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকারকে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। এতে মনে হচ্ছে সরকার সংলাপ চায় না সংঘাত চায়। আর এর অংশ হিসেবেই তারেক রহমানকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সাজা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
তারেক রহমানের মামলা প্রসঙ্গে ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা জানি না রায়ে কি হবে। তবে সরকারের নির্দেশে আদালত রায় দেবেন। তবে সেই আর বিএনপি ও দেশের জনগণ প্রত্যাখান করবে’।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে বিএনপির আন্দোলন দমন করা যাবে না। যত মামলা ও গ্রেপ্তার করা হবে বিএনপির আন্দোলন তত তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।
বিএনপির ৮৪ ঘন্টার হরতালের চিত্র তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপির ৮৪ ঘন্টার হরতাল সফল হয়েছে। দেশের সাধারণ জনগণ বিএনপির হরতাল ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে ইতোমধ্যে সরকারকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন।
বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিনা রহমান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।




