সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়কেউ যেন দেশের ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান...

কেউ যেন দেশের ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশবাসী আবারও বিএনপির ভয়ংকর অগ্নিসন্ত্রাসের রূপ দেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে কেউ যেন দেশের ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার (৩০ জুলাই) গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি পঞ্চম পর্বে ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার উদ্যোগ নিলেও ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসেই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের আধুনিকায়নের কাজ বন্ধ করে দেয়। ক্যান্টনমেন্ট মসজিদ নির্মাণও বন্ধ করে দেন খালেদা জিয়া। ইসলাম ধর্মের নামে রাজনীতি করেন তারা। অথচ ধর্মের প্রতি তাদের কোনো আন্তরিকতা ছিলো না, যা ছিলো লোক দেখানো।

 গতকাল (শনিবার) বিএনপির ঢাকা প্রবেশ পথে অবস্থান কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের ভয়ংকর অগ্নিসন্ত্রাসের রূপ আবার দেখলো দেশবাসী। আবার যেন অগ্নিসন্ত্রাসীরা দেশের ক্ষতি না করতে পারে, সেজন্য সকলের কাছে আহ্বান রইলো। আমরা চাই না অগ্নিসন্ত্রাস হোক, আমরা চাই দেশের শান্তি-উন্নতি।

 সমাজে নানা ধরনের অপকর্ম হয়, এগুলো থেকে যেন মানুষ দূরে থাকে; জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কেউ যেন সম্পৃক্ত না হয়, সে বিষয়ে আলেমদের ভূমিকা রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের জন্য শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে; এটা মানা যায় না। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি বহাল রয়েছে। আপনারা সেদিকে খেয়াল রাখবেন।’

ইমামদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জুম্মার নামাজের খুতবায় সামাজিক বিষয়ে সচেতন করা, কোমলমতি শিশুরা যাতে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দেবেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদ দেশের প্রতিটি জেলায় ও উপজেলায় স্থাপন করতে নয় হাজার ৪৩৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ২০১৭ সালে গ্রহণ করে সরকার। ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক (২য় সংশোধিত) প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। গণপূর্ত অধিদপ্তর মসজিদগুলো নির্মাণ করছে।

এরই মধ্যে ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রথম পর্যায়ে, ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ে, ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ তৃতীয় পর্যায়ে এবং গত ১৭ এপ্রিল চতুর্থ পর্যায়ে ৫০টি করে মোট ২০০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিনও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নামাজ আদায় করা হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, প্রতিটি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ৪৩ শতাংশ জমির ওপর তিন ক্যাটাগরিতে নির্মিত হচ্ছে। এরমধ্যে জেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে চারতলা, উপজেলা পর্যায়ে তিনতলা এবং উপকূলীয় এলাকায় চারতলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এ-ক্যাটাগরিতে ৬৪টি জেলা শহর ও ৩টি সিটি করপোরেশনে ৫টিসহ মোট ৬৯টি চারতলা বিশিষ্ট মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। বি-ক্যাটাগরিতে উপজেলা পর্যায়ে ৪৭৯টি (নবগঠিত ৪টি উপজেলাসহ) এবং সি-ক্যাটাগরিতে উপকূলীয় এলাকায় চারতলা বিশিষ্ট (নিচতলা ফাঁকা থাকবে) ১৬টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে।

মসজিদগুলোতে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক অজু ও নামাজ কক্ষ, ইমাম প্রশিক্ষণকেন্দ্র, হেফজখানা, গণশিক্ষা কেন্দ্র, গবেষণাকেন্দ্র, পাঠাগার, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, জানাজার ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন, লাইব্রেরি, অটিজম কর্নার, ই-কর্নার, বিদেশি পর্যটকদের আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনের থাকার ব্যবস্থাসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ