ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টুঙ্গীপাড়ার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন, টুঙ্গীপাড়ার মাটিতে শুয়ে আছেন। আমার আত্মাটাও পড়ে আছে এখানে। আমি রাজনীতি থেকে অবসর নিলে এই টুঙ্গীপাড়ায় থাকবো। মঙ্গলবার দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার তালিমপুর তেলীহাতি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি জাতীয় নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চান।
সরকারের উন্নয়ন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন করেছে। শিক্ষাখাতে উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষাখাতে উন্নয়ন করেছি। আমাদের সময়ে শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়ন হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থীকে এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
শিক্ষাখাতে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়েছি। আমরা শুধুমাত্র শিক্ষায় উন্নয়ন নয়, আমরা প্রযুক্তিগত শিক্ষার উন্নয়নে কাজ শুরু করেছি। মাধ্যমিক পর্যায়ে কম্পিউটার শিক্ষা শুরু করেছি। আগামীতে ক্ষমতায় এলে প্রাথমিক পর্যায় থেকে কম্পিউটার শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে দেবো। যাতে ছেলে-মেয়েরা প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়। আমরা ২০ হাজার স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুমের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’
খালেদা জিয়ার প্রতি হরতালের প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হরতাল দিয়ে মানুষ পোড়ানো বন্ধ করেন। এভাবে আর মানুষ পুড়িয়ে মারবেন না। হরতাল দিয়ে আপনি কী পেয়েছেন?’ হরতালের নামে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এর দায় বিরোধী দলীয় নেতাকেই নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমার দাওয়াত উপেক্ষা করে হরতাল দিয়ে মানুষ হত্যা করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা, তিনি খুন করায় উস্তাদ, মানুষ খুন করতেই পছন্দ করেন তিনি। দেশের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে, গণতন্ত্রের উন্নয়নে আমি উনাকে গণভবনে ডেকেছিলাম, কিন্তু উনি না এসে হরতাল ডাকলেন, মানুষ হত্যা করলেন। বিরোধী দলের ডাকা হরতালে যত মানুষ নিহত হয়েছে এর সব দায় খালেদা জিয়াকে নিতে হবে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য খালেদার বিচার হবে বলেও হুঁশিয়ারি তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের মালিক জনগণ, তারাই ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। কোনো অবৈধ উপায়ে, পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া সুযোগ বাংলাদেশে নেই। ৯০ শতাংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করে আমরা সেটা নিশ্চিত করেছি।”
দুঃখ ভরাক্রান্ত হয়ে তিনি বলেন, “আমাকে বহুবার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে, ষড়যন্ত্র আজো হচ্ছে। আর এসব ষড়যন্ত্রের মূলে রয়েছে জিয়াউর রহমান। কারণ তিনি ১৫ আগস্টের খুনিদের বিদেশে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন করেছিলেন। তাদেরই উত্তরসূরি রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন বিরোধী দলের নেতা।”
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকাল থেকে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুরে রাজৈরসহ অন্যান্য স্থান থেকে হাজার হাজার লোক জনসভা স্থলে আসতে থাকেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার মধ্যে জনসভাস্থল কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
আগত মানুষ মাঠে জায়গা না পেয়ে আশপাশের বিভিন্ন ঘরের চালে, গাছে ও রাস্তায় অবস্থান নেন। এরপর জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অর্ধশত বক্তা বক্তব্য দেন।
জনসভাস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে নির্মিত আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, কৃষি আবহাওয়া অফিস, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, বিআরটিসি ট্রেনিং সেন্টার, টিচার্স ট্রেনিং সেন্টারসহ জেলা সদর, কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার অন্তত ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এসব প্রকল্পে ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।




