সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়হরতাল দিয়ে তারা মানুষ হত্যা করছে : শেখ হাসিনা

হরতাল দিয়ে তারা মানুষ হত্যা করছে : শেখ হাসিনা

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির দুই নীতি এক হলো, মানুষ খুন আর অপর হলো দুর্নীতি। এছাড়া তারা আর কিছুই করে না। সোমবার বিকালে খাগড়াছড়ির স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, তারা হরতাল দিয়েছে এতে তারা কি পেয়েছে? হরতাল দিয়ে তারা মানুষ হত্যা করছে। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে আন্দোলন করছে কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না। তাদের বিচার হবেই। মানুষের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবেনা।

তিনি বলেন, খাগড়াছড়িতে এ সরকারের সময়ে অনেক উন্নয়ন করা হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জন্যে উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট করা হয়েছে। হেডম্যান কারবারীদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দূর্গম এলাকায় রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় তথ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীতে ক্ষমতায় আসলে খাগড়াছড়িতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং মানিকছড়ির সেমুতাং গ্যাসের সাহায্যে ক্ষুদ্র-মাঝারী শিল্পকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রক্রিয়াজাত শিল্প স্থাপন করার মাধ্যমে এখানকার চাষীদের শাক সবজি এবং বিভিন্ন ফলমূল সংরক্ষণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। যেহেতু খাগড়াছড়ি একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নৈসর্গিক লীলাভূমি তাই এখানে আধুনিক পর্যটন নগরীতে পরিণত করতে সরকারী সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

জনসমাবেশের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৩ শত ২০ কোটি টাকার ১৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো রামগড়ের জালিয়াপাড়া বিজিবির ৫০ শয্যা হাসপাতাল, এপিবিএন ট্রেনিং সেন্টার, খাদ্যগুদাম, ভাইবোনছড়া ব্রিজ, দিঘীনালা আবহাওয়া অফিস, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, সরকারী কলেজের একাডেমিক ভবন, মহালছড়ি স্কুল ভবন, জেলা পরিষদের কমিউনিটি সেন্টার, পুলিশ লাইন্স স্কুলের একাডেমিক ভবন, পানখাইয়াপাড়া মারমা ছাত্রাবাস, গ্রীড সাব-স্টেশন, দিঘীনালার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন,শান্তি স্তম্ভ, সিজিএম কোর্ট, তাইন্দং আশ্রায়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে ইউপিডিএফ সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) গত ১০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলন প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে প্রশাসন কর্তৃক অনুমতি না দেয়ায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি থুইক্যচিং মারমা ও সাধারণ সম্পাদক বিলাস চাকমা এক যুক্ত বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিন খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ডাক দেন।

প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশে আসার সময় পানছড়ি, গুইমারা, লক্ষীছড়ি গাড়ী বহরে হামলা করে ইউপিডিএফের কর্মীরা। পানছড়িতে সকালে সড়ক অবরোধ করে রাখে ইউপিডিএফের কর্মীরা। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহলদল জিপ নিয়ে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে ইউপিডিএফের কর্মীরা তাদের ওই গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এবং পুলিশকে লক্ষ করে গুলতি মারে। এতে হাবিলদার আব্দুল মজিদ, ও কনস্টেবল নাসির আহত হন। পরে নালকাটা ব্রিকফিল্ডের পাশে এপি ব্যাটালিয়নের একটি ক্যাম্পে ঢিল মেরে ভাংচুর করার খবর পাওয়া গেছে। লক্ষিছড়ি থেকে জনসমাবেশর উদ্দেশে আসার সময়ে গুইমারার কালপানিতে রাস্তায় গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেয়া গয়। এছাড়া হাফছড়ি ও বুদংপাড়ায় গাড়িবহরে গুলি করে ইউপিডিএফের কর্মীরা। এসময় চারজন আহত হয়। এদিকে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কের মহালছড়ি-কুতুকছড়ি এলাকায় কয়েকটি ব্রিজের পাটাতন খুলে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যদের বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহম্মেদ, সমাবেশ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম শফি ও সহসাধারণ সম্পাদক নির্মল চৌধুরী, দিঘীনালা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ