সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনচট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে লাইসেন্স পেল ২৩ প্রতিষ্ঠান

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে লাইসেন্স পেল ২৩ প্রতিষ্ঠান

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের জন্য ‘শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর’ হিসেবে ২৩টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। বন্দরের বোর্ড সভায় বৃহস্পতিবার এসব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বন্দর সূত্র জানায়, বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে বছরে সাড়ে ছয় কোটি টন পণ্য খালাস করা হয়। বর্তমানে ৩২টি প্রতিষ্ঠান বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের আমদানি পণ্য খালাস করে। বাকি ২৭টি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন আমদানিকারকের পণ্য খালাসে নিয়োজিত রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে মাদারভেসেলে (বড় জাহাজ) করে আমদানি হয় গম, সার, সিমেন্ট ক্লিংকার, পাথর, কয়লা ইত্যাদি পণ্য। এসব পণ্য খালাসে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে রাজত্ব করছিল ৩২ প্রতিষ্ঠান। শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের সিন্ডিকেট এবং পণ্য খালাসে বাড়তি সময় লাগার বিষয়ে আমদানিকারকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের মাথায় নতুন করে ২৩ প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে চট্টগ্রামের রয়েছে ১৬টি। বর্হিনোঙরে পণ্য খালাসে প্রতিযোগিতা বাড়াতে, আমদানিকারকদের সময়, খরচ বাঁচাতে এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে বলছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ ১৯৮২ সালে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর লাইসন্স দিয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ৪০ বছরে নতুন করে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরকে আর কোন লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। ফলে পণ্য খালাসে নিয়োজিত ৩২টি প্রতিষ্ঠান রাজত্ব চালিয়ে আসছিলো। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে পণ্য আমদানি ছয় থেকে সাত গুণ বেড়েছে। বর্তমানে বহিনোঙরে বড় জাহাজ থেকে বছরে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টন পণ্য খালাস হয়। ৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের আমদানি পণ্য খালাস করলেও বাকি ২৭টি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন আমদানিকারকের পণ্য খালাসে একচেটিয়া ব্যবসা করতো। বন্দরের বর্হিনোঙরে একটি মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের ১৮ থেকে ২০ দিন সময় লেগে যেতো। নতুন করে ২৩ প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়ায় পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতা কমার পাশাপাশি আমদানিকারকদের খরচ আরও কমে আসবে বলে মনে করছে বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

পণ্য খালাসে লাইসেন্স পেল চট্টগ্রামের যে ১৬ প্রতিষ্ঠান
চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙরে মাদারভেসেল থেকে পণ্য খালাস করতে গত ২৭ এপ্রিল ২৩টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে চট্টগ্রামের রয়েছে ১৬টি প্রতিষ্ঠান।

চট্টগ্রামের ১৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের শালুতিকার এসোসিয়েটস, এনএমটি-এমএসএন লিমিটেড, জিডি হারবার সার্ভিসেস, আহমেদ মেরিটাইম লজিস্টিক, কিউএনএস গ্লোবাল লজিস্ট্রিক। তালিকায় রয়েছে নগরের বারিক বিল্ডিং এলাকার বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিসেস, মা ট্রেডিং, তাইফুল এন্টারপ্রাইজ, গফুর ব্রাদার্স এণ্ড কোং। এছাড়া লাইসেন্স পেয়েছে নগরের কাজির দেউড়ি এলাকার লামিসা এন্ট্রারপ্রাইজ, জিইসি এলাকার পোর্ট হারবার ইন্টারন্যাশনাল, উত্তর পাঠানটুলী এলাকার এস ট্রেডিং, পাহাড়তলী এলাকার এন এস কনসাল্টিং, ওআর নিজাম রোড এলাকার এবি করপোরেশন, পোর্ট কানিকটিং রোড এলাকার ওশান কন্ট্রাকটিং এণ্ড সাপ্লাইং ফার্ম ও সীতাকুণ্ড এলাকার শাহী শিপিং এণ্ড ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

এছাড়াও রাজধানী ঢাকার বনানী এলাকার আরিয়ান ট্রেডার্স, আর কে করপোরেশন লাইসেন্স পেয়েছে। রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার ব্রিজেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কেয়ার শিপিং এণ্ড ফ্রেইট লিমিটেডের পাশাপাশি কারওয়ান বাজার এলাকার গুড এলায়েন্স সার্ভিসেস এবং যশোরের অভয়নগর এলাকার কেএএস ট্রেডিং ও খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার খুলনা ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজ পণ্য খালাসের লাইসেন্স পেয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বর্হিনোঙরে মাদারভেসেল থেকে ছোট লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে এতদিন এই কার্গো হ্যান্ডলিং করতো ৩২ অপারেটর। সম্প্রতি লাইসেন্স পেয়েছে আরো ২৩টি প্রতিষ্ঠান। এর বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল ১৬৩টি। নতুন লাইসেন্স পাওয়া ২৩ জনের মধ্যে অন্যতম হলেন বরিশাল সিটি করপোরশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাদ, সাবেক তিন ছাত্রনেতা শাহজাদা মহিউদ্দীন, সীমান্ত তালুকদার ও আরশাদুল আলম বাচ্চু। চট্টগ্রামের ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ ও বিকডার সভাপতি নুরুল কাইয়ূম খান। এছাড়াও রয়েছে যুবদল ও ছাত্রদলের দুই সাবেক নেতা।

বিকডার সভাপতি নুরুল কাইয়ূম খান বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন করে কাজের সুযোগ করে দেওয়ায় পণ্য খালাসে গতিশীলতা বাড়বে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্র আরও বড় হবে। প্রতিযোগিতা বাড়ায় বন্দর ব্যবহারকারীরাও লাভবান হবে।

এদিকে নুতন অপারেটর নিয়োগের বিষয়ে নানা অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমে সম্প্রতি একটি বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিওএ)। বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কুতুবদিয়া বহির্নোঙর ও অন্যান্য বিশেষায়িত জেটিতে আসা দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের জন্য রেগুলেশনস ফর ওয়ার্কিং অব চিটাগং পোর্ট (কার্গো অ্যান্ড কনটেইনার) ২০০১-এর প্রবিধানমালা অনুসরণ না করে অনিয়মতান্ত্রিক ও দরপত্র ব্যতীত নতুন শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর তালিকাভুক্ত করতে একটি বোর্ড সভা আহ্বান করতে যাচ্ছে। অথচ চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও অনেক স্টিভিডোরিং প্রতিষ্ঠান শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে ব্যর্থ হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে কুতুবদিয়া, বহির্নোঙর ও অন্যান্য বিশেষায়িত জেটিতে কাজের জন্য দরপত্র ব্যতীত শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর তালিকাভুক্তি ও নিয়োগ করা অত্যন্ত অযৌক্তিক ও বেআইনি।

লাইসেন্স প্রদান বিধিমালা উপেক্ষা করা হয়েছে এমন অভিযাগ তুলে সংগঠনটির পরিচালক জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, স্বচ্ছ টেন্ডারের মাধ্যমে, আইনের যে ধারাগুলো আছে সেগুলো অনুসরণ করে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর তালিকাভুক্ত করা হোক।

তবে প্রতিযোগিতা বাড়াতে নিয়ম মেনে নতুন অপারেটর নিয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি বন্দর কর্তৃপক্ষের। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, আইনে যে ক্ষমতা দেয়া আছে সে ক্ষমতার সুষ্ঠু ব্যবহার করে নতুন অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আবেদনে যে যে শর্তগুলো দেয়া ছিল সেগুলো পূরণ করা হয়েছে কিনা তা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে। আমাদের একটি কমিটি ছিল। কমিটি পুরো বিষয়টি দেখেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ