বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনচট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ক্রমেই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ক্রমেই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে (চসিক) ক্রমেই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের পর বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করায় এই উত্তাপে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মাঠে-ঘাটে সর্বত্র এখন আলোচনার বিষয়- কে হবেন ৬০ লাখ অধিবাসীর বাণিজ্যিক নগরীর নতুন অভিভাবক? ২৯ মার্চ কার মাথায় উঠবে জয়ের মুকুট? আলোচনায় এগিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন। অতীতের মতো এবারও দুই প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি। তার দাবি, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনিই জিতবেন। তার মতে, চট্টগ্রামে জাতীয় পার্টির শক্ত অবস্থান রয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। এ প্রসঙ্গে সোলায়মান শেঠ যুগান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতিতে দাগ আছে। জাতীয় পার্টির কোনো দাগ নেই। তাই এখন মানুষ তাকিয়ে আছে জাতীয় পার্টির দিকে। জাতীয় পার্টি সন্ত্রাসমুক্ত রাজনৈতিক দল।’

নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীকে ১৫ ফেব্রুয়ারি মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর প্রায় ১০ দিন পর সোমবার বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন নগর সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তার হাতেই তুলে দেয়া হয় ধানের শীষ।

কেন ডা. শাহাদাতকে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে বিএনপি- এ প্রশ্নের জবাবে দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ‘তাকে মনোনয়ন দিয়ে স্থায়ী কমিটি সঠিক কাজই করেছে। আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা আছে। জেলও খেটেছেন। অনেক রাজনৈতিক মামলা দেয়ার পরও তিনি মাঠ ছেড়ে যাননি। চিকিৎসক হিসেবে তার একটা সামাজিক মর্যাদাও রয়েছে। চট্টগ্রামের সবাই তাকে চেনে। সভাপতি হিসেবে নগর বিএনপিকে আগলে রেখেছেন। সব বিবেচনায় তিনি যোগ্য প্রার্থী। শামীম বলেন, ‘আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচন করছি এটা ঠিক; কিন্তু মূল লক্ষ্য জয়।

এদিকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। উজ্জ্বল ভাবমূর্তি, দলের জন্য দীর্ঘদিনের ত্যাগ এবং দলীয় অন্তর্কোন্দল থেকে দূরে থেকে পরিচ্ছন্ন ইমেজ তৈরির করতে পারায় পুরস্কার হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। প্রতিদিন তার বাসায় শত শত নেতাকর্মী ভিড় করছেন। চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের প্রায় সবাই পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি মেয়র পদে মনোনয়নবঞ্চিত বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনও তার পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান সমন্বয়কারী প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের আহ্বানে রোববার রাতে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে মতবিনিময় সভা হয়। যেখানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় রেজাউল করিমকে জিতিয়ে আনতে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক শক্তি নিয়োজিত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার রাতে জরুরি বর্ধিত সভা করে নগর আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আমাদের আদর্শিক নেত্রী যাদের মনোনয়ন দিয়েছেন, তাদের বিজয়ী করার জন্য আমাদের সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা অবস্থান নেবে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘রেজাউল করিম চৌধুরীর বিজয় নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সমবেত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’ সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ওজর আপত্তি চলবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ