বিশেষ প্রতিনিধিঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের নামে মামলা করা হয়েছে ৯৮টি। যা নজিরবিহীন ঘটনা। চাঞ্চল্যকর ও ভয়ঙ্কর তথ্য হলো—একজন ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে সরকার যতগুলো মামলা দায়ের করেছে, এতসংখ্যক মামলা দেশের কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামেও নেই।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনকে ৫ দফায় মোট ৫৩ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা দায়ের করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। গত ৩১ মার্চ রাজধানীর শ্যামলীর একটি বাসা থেকে দেলাওয়ার হোসেনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর তাকে রিমান্ডে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে এবং রিমান্ড ছাড়াও ডিবিতে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নামে তার হাত-পা বেঁধে প্রহার করা হয়েছে। পৈশাচিক কায়দায় তার গোপনাঙ্গে ইলেকট্রিক শক দিয়ে নির্যাতন চালায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।
গত ২১ মে তাকে রিমান্ড থেকে মুমূর্ষু অবস্থায়ই ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে পাজাকোলা করে পুলিশ সদস্যরা আদালতে হাজির করে। এ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেও পারেননি তিনি। এরপরও সেদিন তার জন্য নতুন করে আরও ১৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি দেখে আদালত নতুন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেনি। ২৮ মে চিকিত্সকের পরামর্শসহ রিপোর্ট আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাকে চিকিত্সাও দেয়া হয়নি। আদালতের নির্দেশনার পরও মুমূর্ষু দেলাওয়ার হোসেনকে হাসপাতালে নিয়ে উন্নত চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হয়নি। জানা গেছে, কারাগারে দেলাওয়ার হোসেনের অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক। শিবির সভাপতিকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং তার মুক্তি দাবিতে হরতালসহ বিক্ষোভ করেছে সংগঠনটি।
শিবির সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল জব্বার বলেন, কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করে পাঁচবারে একটানা ৫৩ দিন রিমান্ডে ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত অবশ করে দেয়ায় তিনি হাঁটাচলা করতে পারছেন না। তিনি বলেন, শিবির সভাপতিকে বার বার রিমান্ডে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করে বর্বরতার নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে বর্তমান প্রশাসন। আদালতের আদেশ যেখানে এক মামলায় একসঙ্গে তিন দিনের বেশি রিমান্ড দেয়া যায় না, সেখানে ৫ বারে দীর্ঘদিন রিমান্ড দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে তাকে। সরকার ভেবেছিল, গ্রেফতার-নির্যাতনের মাধ্যমে ছাত্রশিবিরকে দেশ ও ইসলাম রক্ষার আন্দোলন থেকে পিছু হটানো যাবে; কিন্তু এতে করে ছাত্রশিবিরের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে আজ বিক্ষোভ পালনের জন্য সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।




