গণমাধ্যম এবং সামাজিকমাধ্যমগুলোতে রীতিমতো ট্রলের হিড়িক পড়েছে দুই নারীকে নিয়ে। একজনের আগ্রাসী আচরণ আরেকজনের খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিমানে উঠার আগে মাদক সেবন। এ দুই নারীর অদ্ভুত কাণ্ডের পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর ফেসবুকে অনেকেই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ভিডিও এবং মাদকসেবী নারীর ছবি শেয়ার করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা এবং শাস্তি চেয়েছেন। যাদের নিয়ে এতো তোলপাড় চলছে তাদের একজন চট্টগ্রামের মেয়ে বিমানের কেবিন ক্রু সৈয়দা মাসুমা মুফতি। অন্যজন নারীর সামী ফারদিন তবে পরিচয় জানা যায়নি। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন ফ্লাইটের পূর্বে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার তথ্য গোপন করায় মাসুমা মুফতিকে গত রবিবার গ্রাউন্ডেড করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।
বিমানে প্রতিটি ফ্লাইট ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই পাইলট ও ক্রুরা মাদক গ্রহণ করেছেন কিনা, বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডোপ টেস্ট করা হয়। কিন্তু ঘটনার সময় কেবিন ক্রু মাসুদা মুফতি মাদক সেবন করেও বিষয় গোপন করে ফ্লাইটে আসেন। পরে ডোপ টেস্টে তার মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
বিমানের নিয়ম অনুযায়ী ডোপ টেস্টে প্রমাণ মিললে কোনও ব্যক্তিকে পরবর্তী ৯০ দিন কোনও ডিউটি না দেওয়ার বিধান রয়েছে। মাসুদা মুফতির ডোপ টেস্টের তথ্য ডিজিএম নুরুজ্জামান রঞ্জু ফ্লাইট শিডিউল বিভাগকে জানাননি। তাই দায়িত্বে অবহেলা ও মাসুদা মুফতির মাদক সেবনের তথ্যটি গোপন করায় নুরুজ্জামান রঞ্জুকে গ্রাউন্ডেড করা হয়।
সারা দেশে যখন মাসুমাকে নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি ঠিক সেই মুহূর্তে সৈয়দা মাসুমা মুফতির অন্ধকার জীবনের সন্ধানে নেমেছে দেশের গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার তার বাসার কড়া নজর রয়েছে তাদের। ঢাকায় থাকাকালীন মাসুমা মুফতি কাদের সঙ্গে মেলামেশা করেন, কাদের সঙ্গে রাতে আড্ডা দেন, সেই খবরও পেতে শুরু করেছেন তারা।
সুন্দর চেহারা এবং আকর্ষণীয় ফিগারের কারণে মাসুমাকে দিয়ে সব সময় বিজনেস ক্লাসে ডিউটি করানো হতো। সেই সুযোগে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, বিচারপতি, সাংবাদিকদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এদের মধ্যে কার কার সঙ্গে তিনি অভিজাত এলাকায় রাতের পার্টিতে যোগ দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের আগের রাতে এ ধরনের কোনো পার্টিতে অংশগ্রহণ করেছেন কিনা তার খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
মাসুমা মুফতি মদ্যপ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ডিউটি করার সাহস দেখালো কিভাবে গোয়েন্দাদেরে এমন প্রশ্নের জবাবে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারছে না বিমান কর্মকর্তারা। এ প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটেও বিমানের যেসব স্টাফ ডিডটি করবেন তাদের সবার ডোপ টেস্ট করার পরামর্শ দেয়া হয়।
অপরদিকে ঢাকার মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকার স্কলাস্টিকা স্কুলের সামনে নিয়ম ভেঙে ‘সরকারদলীয় এমপির মেয়ে’দাবি করে উল্টো ট্রাফিক সার্জেন্টকে হুমকি দেওয়ায় ফেসবুকে সামী ফারদিন নামের এক নারীর ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তুমূল সমালোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভিডিওতে ওই নারীকে সার্জেন্ট ঝোটন সিকদারকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে দেখা গেছে। এমনকি ওই নারী তাকে ‘দুই টাকার চাকর’ বলতেও ছাড়েননি। মঙ্গলবার দুপুরে ভিডিওটি শেয়ার করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন সার্জেন্ট ঝোটন সিকদার।




