বিদেশ ফেরত নারীদের পাশে থাকা এবং তাদেরকে মানসিকভাবে সহায়তা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। ১১ জুন বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক এবং এলএফএমইএবি এর যৌথ উদ্যোগে বিদেশ ফেরত নারীদের সহায়তা কার্যক্রম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভাগ্য বদলাতে আমাদের দেশের নারীরা বিদেশে যাচ্ছেন একটু সুখের আশায়। সেখানো বেতন তো পাচ্ছেনই না, উল্টো অনেক সময়ই তাদের কপালে জুটছে নির্যাতন-নিপীড়নের মত ঘটনা। সৌদি আরব থেকে নির্যাতিত হয়ে দেশে ফেরা এই নারীদের সংখ্যা বাড়ছেই। গত তিন বছরে দেশটি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার নারী শ্রমিক ফেরত এসেছে। এর মধ্যে অন্তত এক হাজার ফিরেছেন এ বছরই। চলতি বছরে মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র সৌদি আরবের রিয়াদের ইমিগ্রেশন ক্যাম্প থেকে দেশে ফিরেছেন ৩৬০ জন নারী কর্মী।
তিনি আরও বলেন, যাদের কারণে আজ আমরা বড় বড় ব্রীজ রাস্তাঘাট ইত্যাদি নির্মাণ করছি এবং জাতীয় বাজেটে তাদের পাঠানো রিমিটেন্সে এক তৃতীয়াংশ পূরণ করা হচ্ছে, তারা কেন আজ অবহেলিত ও নিপীড়িত? আমাদের সরকার যদি দশ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে পারে তবে সাত লাখ নির্যাতিত নারী শ্রমীককে কেন আশ্রয় দিতে পারবেনা?
তাই আমাদের সরকারের উচিত এই অবহেলিত নারী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা। এতে করে তারা দেশের মধ্যেই তাদের নিজস্ব প্রচেষ্টায় স্বাবলম্বী হতে পারবে। এর আগে এক বিদেশ ফেরত নারী শ্রমিক বলেন, ‘ছয় মাস আগে চল্লিশ হাজার টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে সৌদিআরব গিয়েছিলাম। প্রথমে সেখানে আমি একজন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করি। প্রথম দিকে তারা আমাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করলেও পরবর্তীতে নানাভাবে অত্যাচার শুরু করে। মাস শেষে যদি বেতন চাওয়া হলে তারা গরম ইস্ত্রি দিয়ে আমাদের হাত এবং পিঠ পুড়িয়ে দিত। খাবার চাইলে তারা আমাদের ঝাড়ু দিয়ে পিটাতো। খাবার না খেয়ে এমন দুই তিন দিনও পার করতে হয়েছে আমাদের। এসব অত্যাচারের কথা আমাদের কফিল কে বললে তারাও আমাদের নির্যাতন করতো। দেশে আসার কথা বললে ঘরের বাথ রুমের ভেতরে নিয়ে দরজা লাগিয়ে যতক্ষণ খুশি লাঠি বা ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে জখম করতো। আর আমার অনেক বোন আছে যেখানে তারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমন কি সেই নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেকে গর্ভবতীও হয়েছেন। তাই আমি সবার পায়ে ধরে বলতেছি আর কোন মহিলা সৌদি আরব যেন কাজের জন্য না যায়’।
শেষে ওই অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ও এলএফএমইএবি এর পক্ষ থেকে বাইশ জন বিদেশ ফেরত নারীর প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে হস্তান্তর করা হয় এবং ৫০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলে চাকরির নিশ্চয়তার দেওয়া হয়। এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ও এলএফএমইবি এর অনেক সদস্য সহ নির্যাতিত অনেক নারী উপস্থিত ছিলেন।




