ন্যাশনাল ডেস্কঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
নরসিংদীর আকাশে মেঘের ঘনঘটা, বৃষ্টির সাড়ম্বর রাজত্ব। রোববার সকাল থেকে কখনো মুষলধারায়, কখনো ঝিরি ঝিরি বর্ষণে নাকাল হচ্ছেন ১৮ দলের নেতাকর্মী, সমর্থকরা। এই বেরসিক বৃষ্টির বাগড়া উপেক্ষা করেই জমায়েত বাড়ছে বালুর মাঠে।
ঢাকা থেকে দুপুরে রওয়ানা হবেন খালেদা জিয়া। বরাবরের মতোই তাকে স্বাগত জানাতে আগে ভাগেই সবাই আসছেন জনসভাস্থলে। বৃষ্টিবিঘ্নিত জনসভাস্থল ক্রমেই মুখরিত হচ্ছে নেতাকর্মীদের ভিড়ে। |
দুপুর ১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি অব্যাহত ছিলো। মাঠটি বালু আচ্ছাদিত বলেই যা একটু রক্ষা। দাঁড়ানো বা বসার জায়গা সুরক্ষিত রাখতে ত্রিপল পেতে রাখা হয়েছে। মাঠকে জমায়েতের উপযোগী রাখতে হরদম খাটছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। মঞ্চের সুরক্ষায় ওপরে ত্রিপলের ছাউনি দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মাঠে আসছেন, কিন্তু বেশিক্ষণ থাকতে পারছেন না। আশ্রয় নিচ্ছেন পাশের কলেজ, পেট্রোল পাম্প, দূরের দোকান-পাট, নির্মাণাধীন ভবনে। বালুর মাঠটি শহরের কিছুটা বাইরে হওয়াতে সমস্যায় পড়েছেন আগতরা। আশ্রয়ের জায়গা কম বলে অনেকেই চলে যাচ্ছেন পরে আসবেন ভেবে।
জাতায়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার(জাসাস) শিল্পীরা অবশ্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে মঞ্চে গান পরিবেশন করছেন। গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মনির খান, বেবি নাজনীন, হাসান চৌধুরীসহ সংগঠনটির অন্য শিল্পীরা চেষ্টা চালাচ্ছেন সবার উৎসাহ ধরে রাখতে।
মাইক অনিয়মিতভাবে বাজানো হচ্ছে। মাইকের বিষয়েও অনেকে চিন্তিত আছেন। মাঠের আয়তন অনুসারে মাইকগুলোর অবস্থান খুব কাছাকাছি ও সংখ্যাধিক্যে (১১৮টি) জনসভার বক্তব্য পরিস্কার শুনতে পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা অনেকের।
বৃষ্টির কারণে আয়োজকদেরও কিছুটা বিষন্ন দেখা গেছে। তাদের আক্ষেপ, এতো ভালো গোছানো প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু বৃষ্টিতে সৌন্দর্য কমে গেছে। বিশেষ করে নারী উপস্থিতি কমে যাবে বলে মনে করছেন তারা।
সমস্যায় পড়েছেন মিডিয়া কর্মীরাও। ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ যন্ত্রাংশ নিয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন তারা। আশপাশে তেমন কোনো বড় মার্কেট বা ভবন না থাকায় কাজের বিকল্প ব্যবস্থা করে নিতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে।
বৈরি আবহাওয়াতে অবশ্য সবাই হতাশ হচ্ছেন না। খালেদা জিয়ার জনসভার প্রতি আগ্রহী হয়ে আছেন নরসিংদীর মানুষ।
১৮ দলের নেতাকর্মীদের ব্যানার, পোস্টার উজ্জল করে তুলেছে নরসিংদীর বিশাল এলাকা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি শোভা পাচ্ছে এসব বড় বড় ব্যানারে।
জোট কর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাইকে নির্দেশনা দিচ্ছেন সমন্বয়করা। সংগঠন বা অন্য নেতার নামে স্লোগান না দিতে ও তাদের ছবি উচিয়ে দৃষ্টিগোচর করা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। শুধু খালেদা জিয়াকে নিয়ে স্লোগান দিতে আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।
উল্লেখ্য, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জনমত গঠন ও জোটকে সুসংগঠিত করতে দেড় মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন খালেদা জিয়া। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি নরসিংদীর জনসভায় যোগ দিচ্ছেন।
দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, এখানে সরকার পতনের নবতর আন্দোলনের যাত্রা শুরু হবে।
নরসিংদী থেকেই দেড়মাসব্যাপী কর্মসূচির সুচনা করছেন খালেদা। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর রোববার রংপুর, ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার রাজশাহী, ২২ সেপ্টেম্বর রোববার খুলনা, ২৯ সেপ্টেম্বর রোববার বরিশাল এবং ৫ অক্টোবর শনিবার সিলেটে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন খালেদা জিয়া।
ছয়টি জনসভা শেষে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকায় আরো দু’টি জনসভা করবেন বিএনপি প্রধান। এসব সমাবেশে ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারাও অংশ নেবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে।




