শিল্প গ্রুপ টি কে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মেসার্স শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৮ লাখ টাকার উৎসে মূসক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাখিলপত্র পর্যালোচনায় এ ফাঁকির চিত্র উঠে এসেছে।
সূত্র জানায়, নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ তারাবো এলাকায় অবস্থিত মের্সাস শনবম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এলটিইউ এর অধিক্ষেত্রাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন উৎসে মূসক ফাঁকি দিচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির দাখিলপত্র নিরীক্ষা করার উদ্যোগ নেয় এলটিইউ।
এরই ভিত্তিতে এলটিইউ গঠিত তদন্ত দল প্রতিষ্ঠানটির ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত দাখিলপত্র নিরীক্ষা করে। নিরীক্ষায় ৩৮ লাখ ১১ হাজার ১৯ টাকা উৎসে মূসক ফাঁকি খুঁজে পায় তদন্ত দল। নিরীক্ষায় সিএ রিপোর্ট ও দাখিলপত্র যাচাই করা হয়।
২০১৪-১৫ অর্থবছর দাখিলপত্র ও সিএ রিপোর্ট যাটাই করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রোপার্টি, প্লান্ট অ্যান্ড ইকুপমেন্ট, সেলিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, অ্যাডমিনিস্ট্রিটেটিভ এক্সপেন্স হিসেবে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৪৩৯ টাকা ৭০ পয়সা উৎসে মূসক প্রদেয় হলেও প্রতিষ্ঠানটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৪৬৭ টাকা কম পরিশোধ করেছে।
২০১৫-১৬ অর্থবছর একই খাতে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ২ কোটি ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৪৫ টাকা ২৪ পয়সা উৎসে মূসক প্রদেয় হলেও প্রতিষ্ঠানটি ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ৫৫২ টাকা কম পরিশোধ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪-১৫ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছর মোট ৩৮ লাখ ১১ হাজার ১৯ টাকা কম উৎসে মূসক পরিশোধ করে ফাঁকি দিয়েছে বলে নিরীক্ষায় উঠে আসে।
অপরিশোধিত এ মূসক পরিশোধে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ৭ দিনের সময় দিয়ে প্রাথমিক দাবিনামা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ফাঁকি বিষয়ে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়ে মেসার্স শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক খোরশেদুল আলম বলেন, আমরা এখনো কোনো চিঠি পাইনি। তবে নিরীক্ষার সময় আমাদের থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র চেয়েছি, আমরা দিয়েছি। নিরীক্ষা প্রতিবছর হচ্ছে, কাগজপত্র চাচ্ছে, আমরা দিচ্ছি।
উৎসে মূসক ফাঁকি হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যেসব ব্যয় করি তার প্রতিটি ক্ষেত্রে মূসক-১১ নেওয়া সম্ভব হয় না। কারণ সবাই ভ্যাটের আওতাভূক্ত না, চালান দিতে পারে না। সেক্ষেত্রে আমরা নিজেদের থেকে সে ভ্যাট সরকারকে দিয়ে দিই। তিনি বলেন, সরকার ২০০৪ সালে উৎসে মূসক চালু করেছে। এরপর থেকে আমরা দিয়ে আসছি। প্রতিবছর অডিট হয়। এতে যে যে ক্ষেত্রে জমা দেওয়া হয়নি তা এলটিইউ এর সঙ্গে আলোচনা করে আমরা পরে জমা দিয়ে দিই। এটা ফাঁকি হয় না।




