চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মহিম উদ্দিন প্রকাশ মহিন (৩৬) র্যাবের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে নিহত হয়েছেন। ভারতে অন্তরীণ চট্টগ্রামের শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের একসময়ের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিতি আছে মহিমের। ৩০ নভেম্বর ভোরে নগরীর পাঁচলাইশ থানার রাজাগঞ্জ এলাকায় গুলিবিনিময়ে মহিম নিহতের পাশাপাশি তিনজন র্যাব সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই বাহিনীর চট্টগ্রাম জোনের কোম্পানি কমান্ডার লে.কমান্ডার আশিকুর রহমান।
‘আমাদের একটি টহল টিম শেষ রাতের দিকে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় অবস্থান করছিল। পাঁচলাইশ এলাকায় মহিমের অবস্থানের খবর পেয়ে টহল টিম তাকে ধরার জন্য যায়। র্যাবের গাড়ি দেখে মহিম ও তার সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে। টহল টিমও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। পরে মহিমের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আমাদের তিনজন সদস্যও আহত হয়েছেন। ’ বলেন আশিকুর রহমান
গুলিবিনিময়ের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-২২, একটি এসএমজি ও দুটি বিদেশি পিস্তল এবং কয়েক রাউণ্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের সহকারি পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান। মহিমের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে ১৮টি মামলা আছে বলেও জানিয়েছেন মিমতানুর।
সূত্রমতে, নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থাকার সময় মোহাম্মদ মহসিন (বর্তমানে ডিবিতে কর্মরত) মহিমকে গ্রেফতারে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছিলেন। কিন্তু সবসময় সশস্ত্র অনুসারীদের বেস্টনীতে থাকা মহিমকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি মহিমকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশকে হামলার শিকারও হতে হয়েছিল।
জানতে চাইলে পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মহসিন বলেন, মহিম এলাকায় মূতির্মান আতঙ্ক। ভয়ে এলাকার লোকজনের কাছ থেকে মহিমের বিষয়ে কখনোই কোন তথ্য পেতাম না। সবসময় অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করত। এলাকার গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কারখানা থেকে চাঁদা নিত। টেম্পু, সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত চাঁদা পেত।
‘নিয়মিত মাদক সেবন করত। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আগে-পিছে রেখে চলাফেরা করত। এলাকায় কেউ নতুন বাড়ি কিংবা জমি কিনলে তাকে চাঁদা দিতে হত। নয়ত সে লোকজন দিয়ে দখল করে রাখত। বায়েজিদ এবং চাঁন্দগাও এলাকার অনেক প্রভাবশালীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এই কারণে পুলিশও ছিল তার কাছে অনেকটা অসহায়। ’ বলেন মহসিন
সূত্রমতে, ২০১২ সালে ভারতে গ্রেফতার হওয়া শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে মিলে অপরাধ জগতে মহিমের উত্থানের তথ্য আছে পুলিশের কাছে। সাজ্জাদের তিন বিশ্বস্ত সহযোগীর মধ্যে ছিলেন সরওয়ার, ম্যাক্সন ও মহিম। সাজ্জাদ ভারতে গ্রেফতারের পর সরওয়ার এবং ম্যাক্সনকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। তবে মহিম বরাবরই গ্রেফতার এড়িয়ে নিরাপদ ছিলেন। সাজ্জাদের অনুসারী সব সন্ত্রাসীকে মহিম ব্যবহার করতেন। এই নিয়ে পরবর্তীতে সরওয়ার-ম্যাক্সনের সঙ্গে মহিমের দূরত্বও সৃষ্টি হয়েছিল।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন বলেন, সরওয়ার এবং ম্যাক্সন সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছে। সরওয়ার আবুধাবি চলে গেছে বলে শুনেছি। ম্যাক্সন এখনো এলাকায় আছে বলে জানতে পেরেছি। মহিম নিহতের মধ্য দিয়ে অস্ত্রধারী এক ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী পতন হয়েছে বলে মনে করছেন চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।




