বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রচ্ছদটপজামায়াতের হরতালে সাড়া নেই, যান চলাচল স্বাভাবিক

জামায়াতের হরতালে সাড়া নেই, যান চলাচল স্বাভাবিক

জামায়াতের আমির মকবুল আহাদসহসহ ৮ জন নেতাকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে হরতাল শুরু করে জামায়াত।

ভোর থেকে রাজধানীতে জামায়াত নেতাককর্মীদের কোনো কর্মসূচি চোখে পড়েনি। সড়কে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। কয়েকটি এলাকায় আবার যানজটের খবরও পাওয়া গেছে। চলছে দূরপাল্লার বাসও। জামায়াতের ডাকা হরতাল কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল থেকে বাড়তি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে।

এদিকে সারা দেশে এখনও কোথাও কোনো মিছিল-সমাবেশের খবরও পাওয়া যায়নি।গত মঙ্গলবার এক সংবাদ বিবৃতিতে এ হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়। দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ওই বিবৃতিতে মুজিবুর বলেন, দলের আমিরসহ নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রত্যেককে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার প্রতিবাদে ও তাদের মুক্তির দাবিতে আগামী ১২ অক্টোবর সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ সর্বাত্মক হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এছাড়া ১১ অক্টোবর বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভ এবং ১৩ অক্টোবর নেতাদের মুক্তির জন্য দোয়া মাহফিলের কর্মসূচিও দেয় দলটি। দিয়েছে জামায়াত।

জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ডাকা হরতালে জো সমর্থন দেয়নি জোটের শরিক বিএনপি। গত বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই যে গ্রেপ্তার হয়েছেন (জামায়াত নেতারা), দলের পক্ষ থেকে তাদের মুক্তি দাবি করে স্টেটমেন্ট গেছে, মহাসচিব বিবৃতি দিয়েছেন। এই পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি। এর বাইরে আর কিছু নাই।

এদিকে হরতালের সমর্থনে সকাল থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পর্যন্ত দলটির কোনো মিছিল ও পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া হরতালকে ঘিরে এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবরও পাওয়া যায়নি। হরতালে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ও মোড়ে বাড়তি পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

এদিকে হরতালে সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। বেলা যতই বাড়ছে গণপরিবহনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ব্যক্তিগত পরিবহনও চলাচল করতে দেখা গেছে। হরতালের আওতামুক্ত রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, হাসপাতাল, ওষুধের দোকান, ফায়ার সার্ভিস ও সংবাদপত্রের গাড়ি।

উল্লেখ, গোপনে বৈঠক করে নাশকতার পরিকল্পনা করার অভিযোগে গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে মকবুলসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বাকি সাতজন হলেন- জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার, চট্টগ্রাম মহানগরের আমির মোহাম্মদ শাজাহান ও সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমির জাফর সাদেক, সেক্রেটারি জেনারেলের ব্যক্তিগত সহকারী নজরুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ