মোবাইলফোন উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় প্রথমবারের মতো নাম লেখালো বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার গাজীপুরের চন্দ্রায় স্মার্টফোন তৈরির এ কারখানা উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। ইলেকট্রনিকস পণ্য তৈরির দেশি প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন চালু করেছে এই স্মার্টফোন কারখানা। স্মার্টফোন কারখানা উদ্বোধন করতে বৃহস্পতিবার সকালে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রাঙ্গনে এসে পৌঁছান প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।
ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিকভাবে এই কারখানায় উৎপাদন হবে বার্ষিক ২৫ থেকে ৩০ লাখ ইউনিট হ্যান্ডসেট। এজন্য প্রায় ৫০ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে ওয়ালটন ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এখানে রয়েছে হ্যান্ডসেটের ডিজাইন ডেভেলপ, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব। স্থাপন করা হয়েছে বিশ্বের লেটেস্ট জাপান ও জার্মান প্রযুক্তির মেশিনারিজ। কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় এক হাজার লোকের।
স্থাপন করা হয়েছে ছয়টি প্রোডাকশন লাইন। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরো ১০টি প্রোডাকশন লাইন স্থাপনের কাজ। পিসিবির (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড) ওপর অতি নিখুঁতভাবে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পিন বসিয়ে উচ্চ গুণগতমানের পিসিবিএ বা মাদারবোর্ড তৈরির লক্ষ্যে কারখানায় স্থাপন করা হয়েছে সার্ফেস মাউন্টিং টেকনোলজি (এসএমটি ) সিস্টেম। গড়ে তোলা হয়েছে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের পর্যাপ্ত মজুদ।
প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি মডেলের স্মার্টফোন অ্যাসেম্বলিংয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হচ্ছে। আগামী বছর থেকে পূর্ণাঙ্গ হ্যান্ডসেট উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। হ্যান্ডসেটের বডি, চার্জার, ইয়ার ফোন, ব্যাটারি, ইউএসবি ক্যাবলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ নিজস্ব কারখানায় তৈরি করা হবে। কারখানায় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে, মাল্টি-লেয়্যার মাদারবোর্ড তৈরির প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি শক্তিশালী পণ্য উন্নয়ন ও গবেষণা বিভাগ এবং টেস্টিং ল্যাব।




