ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিক কমরেড জসিমউদ্দিন মণ্ডল (৯৫) আর নেই। রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন সোমবার সকাল ৬টায় তার মৃত্যু হয়। সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অনিরুদ্ধ দাশ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন, পাশাপাশি ছিল নিউমোনিয়াও। গত ২৮ সেপ্টেম্বর জসিমউদ্দিন মণ্ডলকে রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রোববার বিকালে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।
এদিকে বিপ্লবী জসিমউদ্দিন মণ্ডলের মৃত্যুতে সিপিবিসহ কমিউনিস্ট ও বামপন্থী রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ কমরেড জসিম মণ্ডলের পরিবারের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সিপিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জসিমউদ্দিন মণ্ডলের মরদেহ আজ বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তার মরদেহ রাজধানীর পুরানা পল্টনের সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেয়া হবে। পরে সেখান থেকে বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।
পাবনা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব জানান, ঢাকায় পার্টি অফিসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার লাশ ঈশ্বরদীতে এনে দাফন করা হবে। ১৯১২ সালে অবিভক্ত ভারতের নদীয়া জেলার কালিদাসপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। যুব বয়সে ১৯৩৯ সালে তিনি রেলইঞ্জিনে কয়লা ফেলার শ্রমিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এ থেকে শ্রমিক শোষণের চিত্র দেখে তিনি প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। একদিকে দারিদ্র্যতা, অন্যদিকে অত্যাচার তাকে ব্রিটিশ রেল কোম্পানির বিরুদ্ধে ধিরে ধিরে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি হয়ে ওঠেন জীবনের রেলগাড়ির অগ্রযাত্রার পথিক। তার বাবা হাউস উদ্দিন মণ্ডলও রেলওয়েতে চাকরি করতেন। কিশোর বয়সেই জসিম মণ্ডল দেখা পেয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধীর। সেই সময় তিনি হয়েছিলেন লাল ঝাণ্ডা পার্টির কর্মী।
তখন অলইন্ডিয়া কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মোজাফফর আহমদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তার সৌভাগ্য হয়েছিল বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে দেখার। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের সান্নিধ্যেও এসেছিলেন তিনি। এর পর ১৯৪২-এর আগস্ট শুরু হয় ঐতিহাসিক ভারত ছাড় আন্দোলন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। চাকরি করা তখন বেশ কঠিন ছিল। মাসে ১৭ টাকা বেতনে সহকারী ফায়ারম্যান হিসেবে চাকরি করতে হতো। পাকিস্তান আমলে জসিমউদ্দিন মণ্ডল উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন শ্রমিক এলাকায় সক্রিয়ভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন। অনেকবার তিনি কারাভোগও করেছেন। তিনি শ্রমিক-জনসভাগুলোতে সাধারণ ভাষায় সুন্দরভাবে বক্তব্য দিতে পারতেন।




