ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সংবিধানের আলোকে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। দেশের মানুষও সে নির্বাচন মেনে নেবে না।
তাই অবিলম্বে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের আহ্বান জানান তিনি।
রবিবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ফখরুল। বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি।
গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের অবস্থান যাই থাক সংবিধান অনুযায়ীই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় ‘সংবিধান থেকে এক চুলও নড়া হবে না’ বলেও নিজের কঠোর অবস্থানের জানান দেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলের দাবি উড়িয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ অক্টোবরের পর সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে বলে যে কথা তারা বলছে, তা সত্য নয়। কেননা, সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জাতি সম্পূর্ণ হতাশ হয়েছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তোরণে প্রধানমন্ত্রী দিক-নির্দেশনা দেবেন, জাতি এমনটাই আশা করেছিল। কিন্তু তার বক্তব্যে সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী বর্তমান সংবিধানের আলোকে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাতে সংঘাত আরও বাড়বে এবং সংকট ঘনীভূত হবে।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে বিএনপির অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধানে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে পদ্ধতির কথা আছে, বিরোধী দল সে নির্বাচনে যাবে না, জনগণও তা মানবে না। আশা করি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি বের করবে।
প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ফিরিস্তিকে ‘দুর্নীতির ফিরিস্তি’ দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, উদ্ভূত রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান না করে উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে জনগণের মন জয় করা যায় না। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান ও আশির দশকে এরশাদ উন্নয়ন করলেও গণ-অভ্যুত্থানে তাদের পতন হয়েছিল।




