শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়নাইকোর কাছে ১০৬ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ, শুনানি ২৫ সেপ্টেম্বর

নাইকোর কাছে ১০৬ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ, শুনানি ২৫ সেপ্টেম্বর

ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর কাছে ১০৬ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ আদায়ে ঢাকা জেলা জজ আদালতে মামলাটির শুনানি আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। মামলার রায় পক্ষে এলে এ অর্থ আদায়ের পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর।

তিনি বুধবার সন্ধ্যায় জানান, ‘ফেনী গ্যাস ক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাসের দামসহ নাইকো পেট্রোবাংলার কাছে ২৭ মিলিয়ন ডলার পাবে। এই ২৭ মিলিয়ন ডলার সমন্বয় করে নাইকোর সম্পত্তি থেকে বাকি টাকা আদায় করা হবে। প্রয়োজনে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘সম্পত্তি ক্রোকের বিষয়টি আমি মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। নাইকোর সম্পত্তি ক্রোকের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোর্টের অনুমতি নিতে বলেছে। এখন আদালত নাইকোর বিরুদ্ধে করা ক্ষতিপূরণ মামলার রায় আমাদের পক্ষে দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘নাইকো আগেই বুঝতে পেরেছিল, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটে (আইসিএসআইডি-ইকসিড) তাদের দুটি অভিযোগই বাতিল হবে। তাই তারা তাদের শেয়ার হস্তান্তরের ষড়যন্ত্র করেছিল। এজন্য কুয়েত বৈদেশিক পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান কোম্পানির (কেইউএফপিইসি) সঙ্গে আলোচনা করে তাদের শেয়ার হস্তান্তর করতে দৌড়ঝাঁপ করে। কিন্তু বিষয়টি আমরা বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গেই মন্ত্রণালয়কে অবহিত করি। এতে ভেস্তে যায় তাদের ষড়যন্ত্র। মন্ত্রণালয় তাদের সাফ জানিয়ে দেয় ইকসিডের ফয়সালার আগে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাবে না।’

উল্লেখ্য, নাইকো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২০১০ এর জুলাইয়ে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটে (আইসিএসআইডি-ইকসিড) এ দুটি অভিযোগ করে। একটি হলো— গ্যাসের বকেয়া বিল আদায় সংক্রান্ত (আরবি/১০/১৮)। অন্যটি— টেংরাটিলা বিস্ফোরণে ক্ষতিপূরণ দাবির মামলার বৈধতা নিয়ে (আরবি/১০/১১)। মঙ্গলবার ওই দুটি মামলাই খারিজ করে দেয় ইকসিড। এতে বাংলাদেশের আদালত ক্ষতিপূরণের বিষয়ে যে রায় দেবে তা-ই মানতে হবে নাইকোকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলা নিষ্পন্নের লক্ষ্যে আরবিট্রেশনে ট্রাইব্যুনাল গঠন সম্পন্ন হয় ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে। ইকসিডে ট্রাইব্যুনালের সভাপতির দায়িত্ব পান মাইকেল শনেলডার। বাংলাদেশের প্রস্তাবে নিউজিল্যান্ডের অধ্যাপক সি. ম্যাকল্যান কিউসিকে এবং নাইকোর প্রস্তাবে ফ্রান্সের জ্যাঁ পলসনকে সালিশ (আরবিট্রেটর) নিয়োগ করা হয়। নিরপেক্ষ স্থান হিসেবে ২০১১ সালের ১৩-১৪ অক্টোবর লন্ডনে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার তিন পৃষ্ঠার সিদ্ধান্তে ইকসিড বলে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ওপর ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার না থাকায় নাইকোর সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চার চুক্তির (জেভিএ) আওতায় বাপেক্সের ওপর এবং গ্যাস ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির আওতায় (জিপিএসএ) পেট্রোবাংলার ওপর এখতিয়ার রয়েছে ট্রাইব্যুনালের। গ্যাসের বকেয়া বিল আদায় বিষয়ে ইকসিড জানায়, যেহেতু নাইকো ও বাপেক্সের যৌথ উদ্যোগে গঠিত কোম্পানি গ্যাস ক্ষেত্রের দায়িত্বে রয়েছে সেহেতু এককভাবে নাইকো কোনো অভিযোগ করতে পারে না। এটি যৌথ কোম্পানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। বাংলাদেশের জরিমানা দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে নাইকোর অভিযোগ সম্পর্কে বলা হয়, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। যৌথ চুক্তি থাকায় উদ্ভূত বিষয়ে বাংলাদেশ ও পেট্রোবাংলাকে অভিযুক্ত করার সুযোগ নেই।

পেট্রোবাংলা এবং বাপেক্সের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন বাংলাদেশের দুই আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌফিক নেওয়াজ ও তার জুনিয়র ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ ফারুক। তাদের সহযোগিতা করেন দুই বিদেশি আইনজীবী লেইস গঞ্জালেজ গারসিয়া ও মিসেস এলিসন ম্যাকডোনাল্ড। আর নাইকোর পক্ষে থাকেন কেনেথ ওয়ারেন। আদালতের বিচারক ছিলেন মাইকেল ই স্নেইডার (প্রেসিডেন্ট), অধ্যাপক ক্যাম্পবেল ম্যাকলাক্লান ও অধ্যাপক ইয়ান পাউলসন।

প্রসঙ্গত, বাপেক্সের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চার চুক্তির মাধ্যমে ২০০৩ সালে ফেনী ও ছাতক গ্যাস ক্ষেত্রের মালিকানা লাভ করে নাইকো। ২০০৫ সালের জানুয়ারি ও জুনে দুই দফায় সিলেটের টেংরাটিলায় দুদফা গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খননের সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় নাইকোর বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ দাবি করে সরকার। কিন্তু এতে নাইকো সাড়া না দেয়ায় ২০০৮ সালে ঢাকার জেলা জজ আদালতে মামলা করে পেট্রোবাংলা। ইতিমধ্যে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

এদিকে ২০১০ সালের মে মাসে ফেনী গ্যাস ক্ষেত্রটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে নাইকোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় না হওয়ায় ফেনী গ্যাস ক্ষেত্র থেকে সরবরাহ করা গ্যাসের দাম বাবদ নাইকোর পাওনা প্রায় ৩ কোটি ডলার পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায় পেট্রোবাংলা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ