ভারি বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে সারাদেশে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বি আইডব্লিউটিএ) সদরঘাটে দায়িত্বরত নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদিন সোমবার সকালে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অতিবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে সারাদেশে লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সকালে সদরঘাট থেকে বিভিন্ন নৌ-রুটের কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। সাধারণত ২ নম্বর সংকেত থাকলে ৬৫ আসনের নিচে সব ধরনের ছোট লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে। আর ৩ নম্বর সংকেত থাকলে ক্ষেত্র বিশেষে বড় লঞ্চগুলো চলাচল করে। কিন্তু ৩ নম্বর সংকেতের সঙ্গে সঙ্গে দমকা হাওয়ায় বড় লঞ্চগুলোও চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর থেকে সবুজ সংকেত পেলে আবারও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হবে বলেও জানান তিনি। সর্বশেষ আবহাওয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমূদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
রোববার রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারী সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




