বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনভুলে বন্দরে ৬ কন্টেইনার, বলছে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান!

ভুলে বন্দরে ৬ কন্টেইনার, বলছে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান!

পোলট্রি ফিডার ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা ছয় কন্টেইনার এলইডি টিভি, বিদেশি সিগারেট ও দামি মদের চালানটি ভুলক্রমে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান জমরাজ ইন্ডাস্ট্রিজ।শনিবার চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার বরাবর পাঠানো চিঠিতে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ভুলক্রমে’ পাঠানো ছয়টি কন্টেইনার পুনরায় সিঙ্গাপুর বন্দরে পাঠানোর আবদার করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ভুলক্রমে প্রেরণ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ থাকলেও সেই কন্টেইনারগুলো কোথায় পাঠানোর কথা তা উল্লেখ নেই। তবে তাদের এ ধরনের আবদার নাকচ করে দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, এ ধরনের আবদার রক্ষা করার কোন সুযোগ নেই। ভুলক্রমে পাঠানোর বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলক। জালিয়াতি ধরা পড়ার পর এ ধরনের কথা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার এএফএম আবদুল্লাহ বলেন, এ ধরনের একটি চিঠি সকালে দেখার সাথে সাথেই নাকচ করে দিয়েছি।জালিয়াতি ধরা পড়ার পর এ ধরনের কথা বলার কোন সুযোগ নেই। দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবেই এ ধরনের চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড.মঈনুল খান বলেন, রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান আমাদের সামনে এসে বলুক তারা চালানটি কোথায় পাঠাতে চেয়েছিলেন। ভুলক্রমে পাঠানো হলে আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের মালিক আত্মগোপনে কেন।

জালিয়াতি ধরা পড়ার পর নিজেদের বাঁচানোর জন্যই এ ধরনের চিঠি দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, চালানটি দ্রুত খালাসের জন্য কন্টেইনার বন্দরে আসার আগেই আড়ালে শুল্কায়নের চেষ্টা হলো কেন। একই আমদানিকারক দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে আগেও জমরাজ ইন্ডাস্ট্রিজ’র কাছ থেকে ৭১টি কন্টেইনার ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ঘোষণা দিয়ে আমদানি করেছিল উল্লেখ করে ড.মঈনুল জানান, দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনটিরই অস্তিত্ব নেই। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের নামে যে ভ্যাট রেজিস্ট্রেন সেটিও ভুয়া। এছাড়া অনেকগুলো কন্টেইনার স্ক্যানিং না করেই খালাস নেওয়া হয়েছে।

খালাস নেওয়া ৭১ কন্টেইনারের বিষয়টি তদন্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে প্রতিষ্ঠানের কোন অস্তিত্ব নেই সেখানে ৭১ কন্টেইনার ক্যাপিটাল মেশিনারিজ কেন আনা হলো এবং তা কোথায় রাখা হয়েছে সেটিও তদন্ত হবে।

নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর পণ্য আমদানি সন্দেহে দুটি চালানে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা ১২টি কন্টেইনার আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। রোববার একটি চালানের ৬টি কন্টেইনারের কায়িক পরীক্ষা করা হয়। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পোলট্রি ফিডার ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ঘোষণা দিলেও কন্টেইনারে পাওয়া গেছে বিপুল সংখ্যক সনি, স্যামসাং সহ বিভিন্ন ব্রান্ডের এলইডি টিভি, বিদেশি সিগারেট, সিভাস রিগাল, ব্ল্যাক লেভেলসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ। বাকি ৬টি কন্টেইনার সোমবার কায়িক পরীক্ষা করা হবে। শুল্ক গোয়েন্দাদের ধারণা এসব কন্টেইনারেও একই ধরনের পণ্য থাকতে পারে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ