শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......আবারও পাহাড়ধস আবারও প্রাণহানি, কাজে লাগেনি জেলা প্রশাসনের ‘তাঁবু’ উদ্যোগ ও মাইকিং

আবারও পাহাড়ধস আবারও প্রাণহানি, কাজে লাগেনি জেলা প্রশাসনের ‘তাঁবু’ উদ্যোগ ও মাইকিং

চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

নগরীর মৃত্যু উপত্যকা বলে পরিচিত লালখান বাজারের মতিঝর্ণায় আবারও পাহাড়ধস ঘটেছে আবারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ধসে মৃত্যু ঠেকাতে প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাঁবু টানানো ও সিটি কর্পোরেশনের ফ্ল্যাট প্রকল্প কার্যক্রম কোনো কিছুই ঠেকাতে পারেনি অনাকাঙ্খিত মৃত্যুকে। গতকালের দু জনের মৃত্যুসহ গত ছয় বছরে ১৮৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো পাহাড় ও দেয়ালধসে।
অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারের পাহাড় ও দেয়াল ধসে মানুষ মারা যাওয়ার বিষয়টি একটু প্রশ্নসাপেক্ষ। পাহাড়ধসে মৃত্যু ঠেকাতে জেলা প্রশাসন গত দেড়মাস আগ থেকেই নগরীর টাইগারপাস রেলওয়ের কলোনির দুটি মাঠ ও আকবর শাহ হাউজিং সোসাইটির সামনে খালি জায়গায় ১৮০ পরিবারকে তাঁবুর মধ্যে আশ্রয় দিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশের লোকদের সরে যেতে দফায় দফায় মাইকিং করা হয়েছে, এমন কোনো গলি নেই যেখানে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা গিয়ে বসবাসকারীদের সতর্ক করেনি। জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান নিজেও পাহাড়ের পাদদেশের বসতিদের সরে গিয়ে নিরাপদে থাকার জন্য বলেছেন। কিন্তুু তারপরও গতকাল সকালের মাত্র ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে মানুষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপাত্ত অনুযায়ী গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
মতিঝর্না এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা নতুন কিছু নয়। ২০০৭ সালের ১১ জুনে পাহাড় ও দেয়ালধসে ১৩২ জন মারা যাওয়ার দিনে মতিঝর্নায় মারা গিয়েছিল দুই জন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১৮ আগষ্ট একই এলাকায় পাহাড়ধসে একই পরিবারের ৫ জনসহ ১১ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১১ সালে মতিঝর্নার শেষ প্রান্তে টাইগারপাস বাটালি হিলের সীমানা দেয়াল ধসে মারা গিয়েছিল ৫ পরিবারের ১৭ জন। এর আগে প্রতিবছরই এই এলাকায় পাহাড়ধসে মানুষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটতো। তবে সর্বশেষ গত বছরে পাহাড়ধসে মতিঝর্নায় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও নগরীর আমবাগানে সীমানা দেয়াল ধসে একজন, আকবর শাহ হাউজিং সোসাইটি, জালালাবাদ ও কৈবল্যধাম বিশ্বব্যাংক কলোনি থেকেও প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে ২৪ জনের প্রাণহানি হয়েছিল।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার তাদের সতর্ক ও মাইকিং করার পরও নিরাপদ আশ্রয়ে না পাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশের বসবাসকারীরা জানায়, এই এলাকা থেকে শহরের যেকোনো জায়গায় সহজে যাতায়াত করা যায়। সাধারণত কম ভাড়ায় থাকা যায় বলে কেউ এই এলাকা ছাড়তে চায় না। তাই ঝুঁকি জেনেও মানুষ এখানেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় থাকতে থাকতে আত্নীয়-স্বজন নিয়ে থাকা লোকজন এই এলাকা থেকে সরে যেতে চায় না। এতে দিন দিন বাড়ছে জনঘনত্ব।
এই এলাকার প্রায় প্রতিটি গলিতে ঢুকে মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন পাহাড়ধস পুনর্বাসন ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ এইচ এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গতকাল যেখানে ধসের ঘটনা ঘটেছে সেখানে যে পাহাড় আছে তা বাহির থেকে বুঝার কোনো উপায় নেই। পাহাড়ের উপরের অংশটি ভেঙে নিচে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর মতিঝর্না এলাকায় মানুষ যেভাবে বসবাস করে এখানে যেকোনো সময়ে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মাথার উপরে পাহাড় রয়েছে দেখার পরও যদি কেউ নিজ উদ্যোগে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সরে না যায় তাহলে আমাদের কী করার আছে? আমরা তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি পুনর্বাসনেরও উদ্যোগ নিয়েছি।’
উল্লেখ্য, রেলওয়ের মালিকানাধীন লালখান বাজারের মতিঝর্নায় প্রায় দুই লাখ লোকের বসতি। চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বৃহত্তম বস্তি হিসেবে পরিচিত এলাকাটি গড়ে উঠেছে পাহাড় কেটে। পাহাড়ের ঢাল কেটে ধাপে ধাপে ঘর তৈরি করা হয়েছে। অনেক সময় উপরের ধাপটি নিচের ধাপের ওপর গড়িয়ে পড়ে এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কিন্তুু যুগ যুগ ধরে অবৈধভাবে এই এলাকায় বসতি স্থাপন করা হলেও রেলওয়ে, গণপূর্ত অধিদপ্তর, এ কে খান, চট্টগ্রাম ওয়াসার মালিকানাধীন এসব পাহাড় নিজেদের দখলে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেই সংস্থাগুলোর। আর এ সুযোগেই এলাকায় গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি এবং ঘটছে দুর্ঘটনা বাড়ছে প্রাণহানি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ