বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে পদ বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হতে পারেনি এ কমিটিতে থাকা নেতারা। তবে ১৮ আগস্ট রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের কয়েকজন ১৯ থেকে বাড়িয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ২১ করার পক্ষে মত দেন। এতে করে কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে হতাশ নেতাদের অন্তত চারজনকে স্থায়ী কমিটিতে স্থান দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যও রক্ষা হবে। কিন্তু স্থায়ী কমিটিতে থাকা কট্টরপন্থী তিন নেতা এ মতের বিরোধিতা করেন। তাদের যুক্তি হলো গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৯ রাখাই ভালো। কাউকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য স্থায়ী কমিটিতে পদ সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
সূত্রমতে, দুই পক্ষের কথাই মনোযোগ দিয়ে শোনেন খালেদা জিয়া। তবে কোনো পক্ষকেই তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি তিনি। বরং যার যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা পালনের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারপারসন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা হয়। পদবঞ্চিত নেতাদের জন্য দলের উপ কমিটিতে জায়গা করে দেওয়া, একাধিক পদ নিয়ে বসে থাকা নেতাদের কাছ থেকে পদগুলো অবমুক্ত করে বঞ্চিতদের সেসব পদে বসানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
বিএনপির জাতীয় ঐক্য’র বিষয়টি বৃহস্পতিবারের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী জাতীয় ঐক্য না হলেও দলীয়ভাবে অথবা ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে কোনো কর্মসূচি দেওয়া যায় কি না- তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সূত্রমতে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ইস্যু করতে চায় বিএনপি। এই ইস্যুতে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার বিষয়টিও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ২১ আগস্ট ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ছিল ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি। জানা গেছে, খুব শিগগিরই বিভক্ত ঢাকা মহানগের উত্তর ও দিক্ষণে আলাদা দু’টি কমিটি ঘোষণা করবে বিএনপি।
খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিষ্টার মদুদ আহমেদ, এম তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বরচন্দ্র রায়। নতুন কমিটি ঘোষণার পর এটিই ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক। এ বৈঠকে নতুন পদ পাওয়া দুই নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন না।
অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাধানী শিলংয়ে অবস্থান করছেন। আর আমির খসরুল মাহমুদ চৌধুরী ব্যক্তিগত সফরে দেশের বাইরে আছেন। পুরনো সদস্যদের মধ্যে লেফটেন্যঅন্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, এমকে আনোয়ার, ড. আব্দুল মঈন খান, তারেক রহমান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।




