শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়ধানমণ্ডি থেকে বাণিজ্যিক স্থাপনা সরাতে আর কোনো বাধা রইল না

ধানমণ্ডি থেকে বাণিজ্যিক স্থাপনা সরাতে আর কোনো বাধা রইল না

রাজধানীর ধানমণ্ডির আবাসিক এলাকা থেকে সব বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। সোমবার বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিঞার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ-সংক্রান্ত আপিল খারিজ করে দেন। এর ফলে ধানমণ্ডি থেকে বাণিজ্যিক স্থাপনা সরাতে আর কোনো বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। জনস্বার্থে দায়ের এক রিটের নিষ্পত্তি করে ২০১২ সালের ১১ জুন বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও ফরিদ আহমেদের বেঞ্চ ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা সরাতে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে রায় দেন। রায়ে হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, স্থাপনাগুলো সরানোর আগে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকদের নোটিশ দিতে হবে। তবে মিরপুর রোড, সাত মসজিদ রোড, ধানমণ্ডি-২ ও ধানমণ্ডি-২৭ নম্বর সড়কের যেসব বাণিজ্যিক স্থাপনা অনুমোদন নিয়ে করা হয়েছে, সেগুলো এ নির্দেশের মধ্যে পড়বে না। একইসঙ্গে ধানমণ্ডিতে অবস্থিত ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ১১টি শাখা একত্র করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সরাতে নির্দেশ দেয়া হয়। এ জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে তিন বছর সময় দেয়া হয়।

স্থানান্তর শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিজস্ব লোকবলের মাধ্যমে যানজট প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া ওই এলাকায় নতুন কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয়া হবে না। পূর্ত ও পরিবেশ সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন, ঢাকার জেলা প্রশাসক, পিডব্লিউডির ধানমণ্ডি এলাকার নির্বাহী প্রকৌশলী, ওই এলাকায় রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদালতের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেন ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কর্তৃপক্ষ। সোমবার আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ড. আবুল বাশার ও রিটকারীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মঞ্জিল মোরসেদ শুনানি করেন।

শুনানি শেষে আপিলকারী পক্ষ তাদের আবেদনটি আজ না চালানোর জন্য মৌখিকভাবে আদালতকে জানান। পরে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন। পরে মঞ্জিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট তার রায়ে ঝিগাতলা, ধানমণ্ডির ২ নম্বর রোড, মিরপুর রোড ও ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর রোডে বাণিজ্যিক স্থাপনা না থাকার বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছেন। ২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জনস্বার্থে ধানমণ্ডি ১০/এ কল্যাণ সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এফ এম মাসুদ ও সম্পাদক এম এ মতিন রিটটি দায়ের করেছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ