বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনজঙ্গি রোধে ‘শহীদের’ আসল সংজ্ঞা প্রচারের প্রস্তাব

জঙ্গি রোধে ‘শহীদের’ আসল সংজ্ঞা প্রচারের প্রস্তাব

জঙ্গি প্রতিরোধে অনলাইনে এবং লিফলেট আকারে শহীদের আসল সংজ্ঞা প্রচারের প্রস্তাব দিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা সন্ত্রাস ও নাশকতা কমিটির সভায় এ প্রস্তাব দেন তিনি।

সিভিল সার্জন বলেন, ‘কিছু মানুষকে মেরে নিজে মরলে শহীদের মর্যাদা পাওয়া যাবে। খুব সহজে জান্নাতে যাওয়া যাবে।’-এমন যুক্তি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্রেইনওয়াশ করে জঙ্গি বানানো হচ্ছে। অথচ এরকম কাজ যারা করে তাদের স্থান জাহান্নামে।এজন্য শহীদের আসল সংজ্ঞা ব্যাপক হারে অনলাইন ও লিফলেট আকারে প্রচার করতে হবে।এতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সম্পর্কে জানবে। ফলে তাদের সহজেই ব্রেইনওয়াশ করা যাবে না।

সভায় জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘জঙ্গি প্রতিরোধে শুধুমাত্র ইমামদের নয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠক করা হেবে। কেন না অধিকাংশ মসজিদে তারা নিজেদের মতো বক্তব্য প্রচারে ইমামদের চাপ দেন। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নামাজ পড়ে না, রোজা রাখে না কিন্তু হঠাৎ করে কিছু ইংলিশ মাধ্যমে পড়ুয়া ছেলে জঙ্গি হয়ে যাচ্ছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। কিন্তু আজ এদের কারণে শান্তির ধর্ম বিতর্কিত হচ্ছে। তাই কাউকে অস্বাভাবিক মনে হলে পুলিশকে জানান। তিনি জঙ্গি প্রতিরোধে প্রতিটি স্কুল-কলেজে অভিভাবক সমাবেশ করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। সভায় রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন স্কুল কলেজের প্রধানরাসহ বিভিন্ন পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সরকারি কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ আইয়ুব মিয়া দিনের ২০ ঘন্টা সন্তানের দিকে নজর রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘দেশের একটি শ্রেণি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দুঃখজনক হলেও সত্য সেই শ্রেণিটি ছাত্র। একজন ছাত্র দিনের সবমিলিয়ে ৪ ঘণ্টা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকে। বাকি ২০ ঘণ্টা সে কি করে তার প্রতি সব অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, ১৮-২৩ বছরের শিক্ষার্থীদের প্রতি বেশি নজর দিতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার অপব্যাখ্যা যেনো তারা না পায় সে বিষয়টিতে খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি তাদের ব্যাগ-বইয়ের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসমূখী করতে কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করে দিতে এবং পাঠ্যসূচিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ইতিহাস আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া অন্যান্য বক্তারা জঙ্গি প্রতিরোধে উপজেলা পর্যায়েও সভা-সমাবেশ করার প্রস্তাব দেন এবং এবং জঙ্গিকাজে না জড়াতে এবং জঙ্গিদের আচার-আচরণসহ নানা বিষয়ে লিফলেট আকারে প্রচার করার জন্য আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ