সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলাম এ নির্দেশ দেন। এর আগে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্স থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) কে এম ফজলুর রহমান বলেন, নূর হোসেনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ ১১টি মামলায় গ্রেফতারের আবেদন জানায়। সবগুলো মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন প্রত্যেকটি মামলায় নূর হোসেনকে আলাদা-আলাদাভাবে আদালতে হাজির করা হবে। এভাবেই মামলার বিচার কাজ চলবে। আদালতের নির্দেশের পরপরই নূর হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে ২টা ২০ মিনিটে পুলিশ লাইন্স থেকে মাইক্রোবাসে করে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে আনা হয়। নূর হোসেনকে হাজির করার খবরে আদালত চত্বরে সমায়েত হন নিহতদের স্বজনরা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে তার ফাঁসির দাবি জানিয়ে জুতা প্রদর্শন করেন তারা। একই সঙ্গে তার প্রতি ঘৃণাও প্রকাশ করেন নিহত সাতজনের স্বজনরা।
১২ নভেম্বর দিনগত রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বেনাপোল সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। পরে রাতেই তাকে র্যাব-পুলিশ ঢাকায় নিয়ে আসে। রাজধানী ঢাকার র্যাব-১-এর সদর দপ্তর থেকে সকাল সাড়ে আটটার দিকে নূর হোসেনকে নারায়ণগঞ্জে নেওয়া হয়। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ড. মহিদ উদ্দিন তাকে গ্রহণ জেলা পুলিশ লাইনসে যান। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সাত খুনের পরে ভারতে পালিয়ে যান এ মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন। এরপর ওই বছরের ১৪ জুন কলকাতার বাগুইআটিতে পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। আটকের পর দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজনরা। তবে ‘অবৈধ’ভাবে ভারতে অবস্থানের কারণে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে স্থানীয় পুলিশ। কিন্তু গত মাসে সেই মামলা প্রত্যাহার করে নেয় ভারত সরকার। এরপর নূর হোসেনের দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। বুধবার ১১ নভেম্বর বাংলাদেশের কারাগারে আটক উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে দুই সঙ্গীসহ ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।এর একদিন পর১২ নভেম্বর নূর হোসেনকে ফেরত দেয় ভারত।




