আগাছা তুলে ফেলে নিজেদের বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের আদর্শের কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুই তার লেখায় বলে গেছেন এদেশের মাটি যেমন উর্বর, এখানে একটা বীজ ফেললে গাছ হয়। আবার এই উর্বর ভূমিতে আগাছাও জন্মে। আর এই আগাছাই আসল গাছের সর্বনাশ করে। ‘কাজেই আগাছাগুলো উপড়ে ফেলে দিতে হয় যাতে করে ভালো গাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। সে পথটাই আমাদের বেছে নিতে হবে। ছাত্রলীগকে আমি সেটাই বলবো’।
সোমবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ছাত্রলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজে-কর্মে সব সময় কোনো আগাছা থাকলে সেগুলো তুলে ফেলে দিয়ে, আদর্শবান কর্মী হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের কর্মী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি এই টুকু চাই যারা আমাদের সঙ্গে রাজনীতিতে জড়িত তারা প্রত্যেকেই যেন জাতির পিতার সেই আদর্শ মেনে চলার চেষ্টা করেন। যাতে করে এদেশের মানুষকে আমরা একটা উন্নত জীবন দিতে পারি। বাংলাদেশকে বিশ্ব সভায় একটা মর্যাদার আসনে নিয়ে যেতে পারি। আমি জানি এটা অনেক কঠিন দায়িত্ব। কারণ পরাজিত শক্তির কিছু দালাল, চাটুকার, তোষামোদের ব্যক্তিরা এদেশে আছে’ যোগ করে প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যতে কেউ যেন এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেজন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকারও আহ্বান জানান তিনি। খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা তো বাংলাদেশের স্বাধীনতাই চায়নি। এ জন্য তারা আমাদের বিজয় ও স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেন না। তাদের জন্য এটা কষ্টকর। চিন্তা করে দেখেন তাদের কতটা বিবৃত মানসিকতা!
জিয়াউর রহমানকে বেঈমান ও মুনাফিক মন্তব্য করে তিনি বলেন, সংবিধান পরিবর্তন করে ক্ষমতায় এসেছিলেন তিনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাতিল করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের পথও বন্ধ করেন তিনি। জিয়া শুধু সংবিধানই নয়, আর্মি ল’ অমান্য করেছিলেন। ইতিহাসের সব খুনিদের পুরস্কৃতও করেছিলেন জিয়া।
ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা অধ্যাপিকা সুলতানা শফি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ফখরুল আলম ও ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।




