মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়শেখ হাসিনাকে ‘দেশরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত

শেখ হাসিনাকে ‘দেশরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত

জাতীয় নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ‘দেশরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। এখন থেকে শেখ হাসিনার নামের আগে দেশরত্ন শব্দটি আবশ্যিকভাবে ব্যবহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নাগরিক কমিটির সভাপতি সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই উপাধিতে ভূষিত করেন। এ সময় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে শেখ হাসিনার এই উপাধিকে স্বাগত জানায়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনার এই উপাধি ঘোষণা দিয়ে সৈয়দ শামসুল হক বলেন, আজ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামের প্রারম্ভে আবশ্যিকভাবে দেশরত্ন শব্দটি ব্যবহার করা হবে। আমি সবার পক্ষ থেকে তাকে দেশরত্ন উপাধিতে ভূষিত করছি। এ বিষয়ে আপনাদের সমর্থন চাই। এ সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সব বড় বড় অর্জন এবং দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সৈয়দ শামসুল হক। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উন্নয়নের কবি হিসেবেও আখ্যা দেন। সৈয়দ শামসুল হক বলেন, মননের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধু আর উন্নয়নের কবি ‘দেশরত্ম’ শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি সব বাধা অতিক্রম করে দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। জয় হোক আপনার।

সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নসহ জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফলতা অর্জনের জন্য এ নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে নাগরিক সংবর্ধনাস্থলে হাজারো জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাড়াও সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্যে সৈয়দ শামসুল হক বলেন, এই ময়দানেই বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দেশে সরকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের বাইরেও তৃতীয় একটি পক্ষ্য রয়েছে। সেই তৃতীয় পক্ষ হলো নাগরিক পক্ষ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি অর্জনের জন্য তাকে সংবর্ধনা দিচ্ছি।

সূচনা বক্তব্যের পর নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এরপর শেখ হাসিনার হাতে নাগরিক সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেন কমিটির সভাপতি সৈয়দ শামসুল হক। অনুষ্ঠানে অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, শিক্ষাবিদ অনুপম সেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান প্রমুখ।

নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, পঁচাত্তরের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ভাষা, সংস্কৃতি বদলে দেওয়ার চেষ্টা হয়। জয় বাংলার পরিবর্তে জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ বেতার হয়ে যায় রেডিও বাংলাদেশ। আশির দশকে দেশে ফিরে অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন শেখ হাসিনা। তিনি যখন নির্বাসনে ছিলেন, তখন দেশে একটা সংস্কৃতি ছিল। সেটা হলো ভয়ের সংস্কৃতি, শঙ্কার সংস্কৃতি। কিন্তু তিনি তা অতিক্রম করে দেশে ফিরেছেন। সাহসের সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছেন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে তিনি বিচারের সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছেন। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। ডিজিটাল দেশের যে যাত্রা তিনি শুরু করেছেন। তার সঙ্গে আমরা আছি।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে পৃথিবীতে মর্যাদার রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জঙ্গিবাদ আর পাকিস্তানমনা বিএনপির আস্ফালন এখন তেমন আর নেই। এর কৃতিত্ব শেখ হাসিনার। অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা থাকাকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, মায়ানমার ও ভারতের সমুদ্রসীমা বিজয়, সম্প্রতি স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছেন। ইতোমধ্যেই অনেকের বিচারের রায় হয়েছে, দু’জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। অর্থনীতিতে বাংলাদেশ সফলতা অর্জন করেছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রবৃদ্ধি প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ