আইনজীবীদের সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও আইন পেশার সর্বোচ্চ সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন এক সপ্তাহের জন্য পিছিয়ে আগামী ২৭ মে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এক আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে বার কাউন্সিলের এক ‘জরুরি সভায়’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন জানিয়েছেন। ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের মেয়ে ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, সৈয়দ রেজাউর রহমানসহ পাঁচ আইনজীবী নির্বাচন পেছানোর আবেদন জানান।
ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে কাউন্সিল জরুরি সভা ডেকে সাতদিন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন জানান, রাত ১০টায় সভা শুরু হয়ে সোয়া ১২টা পর্যন্ত চলে। অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলমের সভাপতিত্বে কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ নির্বাচিত ১৩ সদস্য সভায় অংশ নেন। ভোটার তালিকায় থাকা কিছু ত্রুটি হালনাগাদ করার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। ভোটার তালিকায় ‘অস্পষ্টতা ও একই নাম একাধিকবার’ থাকার কথা জানিয়ে ১০১ জন আইনজীবী গত ২৯ এপ্রিল আলাদাভাবে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সচিবকে চিঠি দেন। বার কাউন্সিল নিজস্ব নথিপত্রের সাহায্য না নিয়ে আইনজীবী সমিতিগুলোর পাঠানো সদস্য তালিকা ধরেই ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, এ ভোটার তালিকা ‘স্বচ্ছভাবে’ হয়নি। কোনো নির্বাচিত সদস্য এ কাজের সঙ্গে ছিলেন বলেও তারা জানেন না। এ ভোটার তালিকায় আইনজীবীদের তালিকভুক্তির নম্বর ও তারিখ, ভলিউম নম্বর ও সনদের পৃষ্ঠা সংখ্যার কোনো কলাম নেই বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় ‘জালিয়াতি ঠেকাতে’ তালিকা সংশোধন করে পুনর্প্রকাশের দাবি জানান ১০১ আইনজীবী।
‘অন্যথায় এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। এর দায়ভার আপনার ওপর বর্তাবে, যা কোনোভাবেই আমাদের কাম্য নয়’- বলা হয় চিঠিতে। আগামী ২০ মে বার কাউন্সিলের নির্বাচনের দিন ধার্য ছিল। এ উপলক্ষে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন। বার কাউন্সিলের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনের তারিখ আরো সাতদিন বাড়ল। বার কাউন্সিল নির্বাচনে মোট ১৪ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন। এর মধ্যে সারা দেশে সনদপ্রাপ্ত আইনজীবীদের ভোটে সাধারণ আসনে সাতজন এবং দেশের সাতটি অঞ্চলের স্থানীয় আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে একজন করে আরও সাতজন নির্বাচিত হয়ে আসেন। এ ১৪ জন সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান। আর অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসাবে পদাধিকার বলে কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন আইনজীবীদের মোর্চা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ থেকে সাধারণ আসনে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু, পরিমল চন্দ্র গুহ, জেড আই খান পান্না ও শ ম রেজাউল করিম প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলে সাধারণ আসনে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, কাউন্সিলের বর্তমান এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান এ জে মোহাম্মদ আলী, এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ মিয়া, বদরুদ্দোজা বাদল, মো. বোরহান উদ্দিন ও মহসিন মিয়া প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করছেন।




