সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদরাজনীতিখালেদা জিয়াকে তার পুত্র তারেক রহমানের জিহ্বা সামলাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়াকে তার পুত্র তারেক রহমানের জিহ্বা সামলাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তার পুত্র তারেক রহমানের জিহ্বা সামলাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। একই অনুষ্ঠানে ইতিহাস বিকৃতির জন্য তারেকের জিহ্বা কাটতে হবে, বলেছেন দলের শীর্ষ নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিএনপি নেত্রীকে বলবো, তার কুপুত্র ওরে একটু জিহ্বা সামলে কথা বলতে বলবেন। যে ধরনের ঘৃণ্য উচ্চারণ করে যাচ্ছে তা শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, বিশ্বের মানুষ মেনে নেবে না। মানুষ এটা বরদাস্ত করতে পারে না।’   ১৭ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেত্রী তার পুত্রদের মানুষ করতে পারেননি, চোর বানাতে পেরেছেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘লন্ডনে বসে (তারেক রহমান) যে ধরনের নোংরা কথা বলে যাচ্ছে। সত্যি কথা বলতে কি, এ ব্যাপারে আমার কথা বলতেও ঘৃণা লাগে। নাম নিতেও ঘৃণা লাগে। কারণ এরা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ইতিহাস বিকৃতি করছে।’ ‘এ ইতিহাস বিকৃতি শুরু করেছে জিয়াউর রহমান, তারপর খালেদা জিয়া করেছেন, এখন শুরু করেছে তার পুত্র’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান জানোয়ারের মতো কথা বলছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি খালেদা জিয়ার ছেলেদের উদ্দেশে বলেন, ‘তারা যদি লেখাপড়া শিখতো, ইতিহাস জানতো তবে সত্য কথা বলতো। পড়ালেখা করে মানুষ হতে পারলে, মানুষের মতো কথা বলতো। আর মানুষ হয়নি বলেই জানোয়ারের মতো কথা বলছে। আর জানোয়ারকে কিভাবে শিক্ষা দিতে হয় তা বাংলার মানুষের ভালো করে জানা আছে। তার কথার মধ্যে ইয়াহিয়া খানের কথার প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। মানুষখেকো জানোয়ারকে যেভাবে শিক্ষা দিতে হয় সেভাবে শিক্ষা দেওয়া উচিত এবং বাংলার মানুষ তাই দেবে।’ খালেদা জিয়া তার সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে টাকা নিয়ে তাদের কোন শিক্ষা দিলেন? কি পাশ করালেন? প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি আমলের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে হাওয়া ভবন ‍খুলে একদিকে মানুষ হত্যা করা, অপরদিকে সামরিক অফিসার, বেসামরিক অফিসার কার চাকরি খাবে তার তালিকা করা, চাকরি খাওয়া, তাদের ওপর অত্যাচার এবং যত রকমের দুর্নীতি আছে সব করেছে খালেদা জিয়া ও তার ছেলেরা।’

একে একে সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি। যে নিজামীদের আল্হাদ করে খালেদা জিয়া মন্ত্রীর গদিতে বসেছে আমরা তাদের বিচার করছি। এটাতো তাদের মনে বিরাট দুঃখের বিষয়। মুজাহিদ আজকে আসামি। সাজাপ্রাপ্ত। ইতোমধ্যে একটার ফাঁসি হয়ে গেছে। একে একে সব সাজাপ্রাপ্তদের শাস্তি কার্যকর করা হবে। যুদ্ধাপরাধীদের ইনশাল্লাহ বাঁচাতে পারবে না।’

যুদ্ধাপরাধীদের মতো একদিন সব হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইভি রহমানসহ বহু মানুষের রক্ত ওদের হাতে। ওই হত্যারও (২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা) বিচার বাংলার মাটিতে হবে। খুনিদের শাস্তি ঠিকই হবে।’

খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির কথা বলার আগে নিজের চেহারা আয়নায় দেখার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আপনি যদি এতই সাধু হন তবে জিয়া অরফানেজ মামলায় পালিয়ে বেড়ান কেন? চোরার মন পুলিশ-পুলিশ। তাই আদালতে যেতে ভয় পান। নিজের চেহারা আয়নায় দেখেন? আয়নায় দেখে দেখবেন কি, সবই তো নকল। যিনি দুর্নীতিতে অভ্যস্ত সেই খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে দুর্নীতির কথা বলেন।’ জিয়াউর রহমান সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা হলে স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে দহরম মহরম সর্ম্পক কেন? এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জিয়া নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে, হ্যাঁ মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম আছে, খেতাবও পেয়েছে, সবই পেয়েছে। বিএনপি তাকে ঘোষক ঘোষক বলে গলা শুকিয়ে ফেলে। আমার প্রশ্ন স্বাধীনতার ঘোষক হলে জিয়া আল-বদর, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করলো কেন? পাকিস্তানের দালালদের ক্ষমতায় বসালো কেন? বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করেছিলো কিভাবে?’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পুরো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে খালেদা জিয়া আল-বদর বাহিনীর প্রধান নিজামীকে মন্ত্রী বানায়। মন্ত্রী বানায় রাজাকার ‍মুজাহিদকেও। আমাদের লাখো শহীদের রক্তে ভেজা পতাকা তুলে দেয় যুদ্ধাপরাধীদের হাতে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করে, খুনি রাজাকার, আল-বদর, স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিষ্ঠিত করে। যদি সত্যিকারে স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতো তবে কখনো এটা করতে পারতো না।’

জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনি মোস্তাকের দোসর ছিলেন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরে জাতির জনকের কন্যা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আস্তে আস্তে মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনাকে জাগ্রত করেছিলেন।’ ‘জাতির পিতা মুক্তিযুদ্ধের সব কিছু পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার পরও মুক্তিযুদ্ধ থেমে থাকেনি’ যোগ করেন তিনি।  প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেন তার বক্তব্যে। আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উন্নয়নের মডেল।’

বিএনপিকে পরাজিত শক্তির দোসর হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘ওরা (বিএনপি) পাকিস্তানের প্রেম কোনো মতেই ভুলতে পারে না। আর ওরা ক্ষমতায় আসলে দেশ পিছিয়ে যাওয়ার একটাই কারণ। তারা তো স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাক এটা তারা চায় না। বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে চলুক এটা তারা চায় না।’

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ