বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদরাজনীতিঅনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা

অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা

রোববার সকাল ১০টা থেকে ফের নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা। শনিবার সারাদিন একই স্থানে অবস্থান, বিক্ষোভ ও মিছিল কর্মসূচি শেষে বিকেল ৫টায় আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন, ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।

তিনি জানান, ঘোষিত কমিটি ভেঙে দিয়ে আবার একটি নতুন কমিটি গঠনের আগ পর্যন্ত আমাদের এ আন্দোলন কর্মসূচি চলবে। রোববার সকাল ১০টা থেকে আমরা উল্লেখিত স্থানে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান নেবো। এরপর পদবঞ্চিত আন্দোলনরত নেতারা বিকেল সোয়া ৫টার দিকে নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকা ত্যাগ করেন। ছাত্রদলের সাবেক দফতর সম্পাদক রফিকুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, যে কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে তা আমরা পালন করবো। তবে শনিবার রাতে মিটিং শেষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে; তা আগামীকাল অর্থাৎ রোববার জানানো হবে।

এরআগে, এ দিন সকাল থেকেই, ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটি প্রত্যাখ্যানকারী পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠে নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকা। পদবঞ্চিত বিক্ষ‍ুব্ধ নেতা-কর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করে ৪ তলায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ সময় নবনির্বাচিত কমিটির সমর্থক ও পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানে নয়াপল্টন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রবেশমুখে ধাওয়া দেয় ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা।

শনিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে দলের সর্বোচ্চ পোস্টের এই নেতাকে ধাওয়া করা হয়। ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের শতাধিক পদবঞ্চিত নেতা-কর্মী মির্জা ফখরুলকে ‘ধর ধর’ বলে এগিয়ে গিয়ে ধাওয়া করে। এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে দ্রুত কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকিয়ে নেন সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এর ফলে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের হাত থেকে রেহাই পান তিনি। এর ঠিক দেড় ঘণ্টা পরই এবার ঝাড়ু নিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে ধাওয়া দেয় ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। ‘দালাল’ ‘দালাল’ বলে চিৎকার করে ছাত্রদলের শতাধিক পদবঞ্চিত নেতারা তাকে ধাওয়া দেয়। এ সময় কেউ কেউ তাকে মারতেও উদ্যত হয়।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীর‍া হাতে ঝাড়ু ও চপ্পল নিয়ে সালাউদ্দিন আহমেদকে ধাওয়া করে। পরে কোনোভাবে তিনি দৌড়ে স্থান ত্যাগ করে বিক্ষুব্ধ নেতাদের রোষানল থেকে রেহাই পান। শনিবার বিক্ষোভকারী পদবঞ্চিত নেতাদের মধ্যে নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় উপস্থিত ছিলেন, আবু সাঈদ, জাভেদ হাসান স্বাধীন, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, তরুণ দে, কামাল আনোয়ার আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম তালুকদার রাজু, শহীদুল্লাহ ইমরান, ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, মশিউর রহমান মিশু, তরিকুল ইসলাম টিটু ও নূরুজ্জামান মুকিত লিংকন, মাহবুবুল আজম, মনিরুল ইসলাম সোহাগ, এম কামরুজ্জামান, আব্দুল মান্নান ফরহাদ, আহসানুল হক রুবেল, রাকিবুল ইসলাম রয়েল, সাঈদ ইকবাল টিটু, রফিকুল ইসলাম রফিক, এমরান হোসেন মানিক, শামসুজ্জোহা সুমন ও জসীম উদ্দিন খান প্রমুখ।

শুধু শনিবারই নয় মঙ্গলবার ছাত্রদলের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার, শুক্রবারও পদবঞ্চিতদের আন্দোলন হয়েছে। এর সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার রাতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনেও ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ