মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়সোমবার ত্যাগ-মহিমা, আনন্দ ও উত্সবের পবিত্র ঈদুল আজহা

সোমবার ত্যাগ-মহিমা, আনন্দ ও উত্সবের পবিত্র ঈদুল আজহা

বিদ্রোহী কবি নজরুলের কবিতার মতো করে সবার প্রাণ বলে উঠবে, ‘ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক। দোস্ত-দুশমন পর-আপন সবার মহল আজি হোক রওনক।’ সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগ-মহিমা, আনন্দ ও উত্সবের দিন। সোমবার দেশের প্রতিটি মুসলমান ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে উদযাপন করবেন এ ধর্মীয় উত্সব। বিশ্ব মুসলিমের জন্য এটি অন্যতম এক ধর্মীয় উত্সব। এই ঈদ শুধু আনন্দের নয়, ত্যাগেরও। শুধু পশু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতাই নয়, এটি সমগ্র বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করে। ঈদুল আজহা নিয়ে আসে মহান আল্লাহর প্রতি বান্দাহর আনুগত্য, ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও আত্মোপলব্ধির শিক্ষা।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইতিমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন নগরীর লাখ লাখ মানুষ শেকড়ের টানে ফিরে গেছেন শৈশবের চেনা জনপদ গ্রাম-গঞ্জে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন তারা। চারদিকে বিরাজ করছে উত্সবের আবহ। কোরবানির পশুও কেনা হয়ে গেছে। রাত পোহালেই আল্লাহর নামে পশু কোরবানি দিয়ে মুসলমানরা ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হবেন।

প্রায় চার হাজার বছর আগের কথা। মহান আল্লাহ নির্দেশ দিলেন নবী হজরত ইব্রাহিমকে (আ.) তার প্রিয় বস্তু কোরবানি করতে। নির্দেশ অনুসারে ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় ছেলে হজরত ইসমাইলকে (আ.) আল্লাহর নামে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিলেন। আনুগত্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। মহান আল্লাহ তার আনুগত্য দেখে খুশি হয়ে ছেলে ইসমাইলের পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি দেয়ার নির্দেশ দেন। সেই থেকে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) এর ত্যাগের মহিমা স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলমানরা প্রতিবছর ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি দেয়। চান্দ্রমাস জিলহজের ১০ তারিখে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়। তবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোনো দিন পশু কোরবানি দেয়া যায়। ইসলাম ধর্মে সামর্থ্যবানের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব বা অবশ্য পালনীয়। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের পর নিজের বা প্রিয়জনদের নামে পশু কোরবানি দেয়া হয়। বিত্তবানদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব হলেও ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয় না দরিদ্ররাও। কোরবানির পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হয়। কোরবানির মাংস, রুটি বিলিয়ে দেয়া হয় দুঃস্থদের মাঝে। আর এর মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে সম্প্রীতি। ঈদুুল আজহা প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা কাউছারে বলা হয়েছে, ‘সৃষ্টিকর্তার নামে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।’ সুরা হজে বলা হয়েছে, ‘কোরবানি করা পশু মানুষের কল্যাণের নির্দেশক।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাকের ঘোষণা, ‘কোরবানির পশুর মাংস বা রক্ত কিছুই আমার কাছে পৌঁছে না, আমার কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ প্রিয় নবী আর হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘ঈদুল আজহার দিন কোরবানির চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দের কিছু নেই। তাই যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দেয় না, সে যেন ঈদগাহে না যায়।’ মূলত আল্লাহ আমাদের যা যা দিয়েছেন তার মধ্যে সর্বোত্তম বা সবচেয়ে প্রিয় জিনিসগুলো আল্লাহর পথে দান করার শিক্ষা দেয় ইসলামের অনন্য এই উত্সব ঈদুল আজহা।

সব ধরনের পাপ ও কলুষতা থেকে মুক্ত থেকে আমরা প্রত্যেক দিনকেই যেন পরিণত করতে পারি প্রকৃত ঈদে, পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে এই হোক আমাদের সবার শপথ ও মহান আল্লাহর কাছে একান্ত প্রার্থনা। এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সাবেক বিরোধীনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তারা দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংবাদপত্রের পাতায় থাকছে বিশেষ আয়োজন। টিভি চ্যানেলগুলো প্রচার করছে প্রায় সপ্তাহব্যাপী ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠান। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশু সদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোমস, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে  ঈদের দিন উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাতটি অনুষ্ঠিত হবে।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ