সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়চার সচিব ও এক যুগ্ম সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত

চার সচিব ও এক যুগ্ম সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত

দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে (দুদক) মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় চার সচিব ও একজন যুগ্ম সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার মুক্তিযুদ্ধ ও জনপ্রশাসন বিষয়ক মন্ত্রণালয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকার) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়। পাঁচ সচিব হলেন, স্বাস্থ্যসচিব নিয়াজউদ্দিন মিঞা, সদ্য ওএসডি হওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব এ কে এম আমির হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান (বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা বেসরকারীকরণ কমিশনের চেয়ারম্যান) এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ওএসডি) আবুল কাসেম তালুকদার।

এর আগে দুদক এই পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে। এই সনদ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, দুদকের তদন্তে তার সত্যতা মিলেছে। গত সোমবার দুদকের পক্ষ থেকে এই সুপারিশ করে জনপ্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। গত বুধবার জনপ্রশাসন ও বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পৌঁছায়।

সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের অপরাধের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, গতকাল শনিবার জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব আকবর আলি খান বলেন, আইনানুযায়ী শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা যাবে। এ ছাড়া যদি প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে প্রতারণার মামলাও হতে পারে।

‘চাকরির শেষ সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেওয়ার হিড়িক’ শিরোনামে গত ২২ জানুয়ারি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চাকরিতে যোগদানের সময়ই নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দিতে হয়। কিন্তু এই শীর্ষ কর্মকর্তারা চাকরির শেষ সময়ে এসে নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করে সনদ নিয়েছেন। গত পাঁচ বছরে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার ১১ হাজার ১৫০ জন। সচিব থেকে শুরু করে চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী, ব্যাংকারও রয়েছেন তাঁদের মধ্যে।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ